যেকোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের সর্বোচ্চ আইন হলো সে দেশের সংবিধান (Constitution)। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বিসিএস (BCS), ব্যাংক বা অন্যান্য সরকারি চাকরির প্রস্তুতি থেকে শুরু করে, আইনের ছাত্র এবং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশের সংবিধান বই PDF পড়া অত্যন্ত জরুরি।
অনলাইনে অনেকেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আপডেটেড পিডিএফ (Updated PDF) কপি খোঁজেন, কিন্তু অনেক সময় সঠিক ও স্পষ্ট কপি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আজকের এই পোস্টে আমরা বাংলাদেশের সংবিধান রচনার ইতিহাস, এর মূলনীতি, গুরুত্বপূর্ণ ধারা এবং সম্পূর্ণ বইটির পিডিএফ ডাউনলোড লিংক শেয়ার করেছি।
বাংলাদেশের সংবিধান রচনার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, একটি সদ্য স্বাধীন দেশের জন্য দ্রুততম সময়ে সংবিধান প্রণয়ন করা ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির নিরলস পরিশ্রমে সংবিধানের খসড়া তৈরি হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (একনজরে)
সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (বিশেষ করে বিসিএস বাংলাদেশ বিষয়াবলী অংশে) সংবিধান থেকে প্রচুর প্রশ্ন আসে। নিচে সংবিধানের কিছু বেসিক তথ্য তুলে ধরা হলো:
| খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় | ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে |
|---|---|
| গৃহীত বা পাস হয় | ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ (এজন্য ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস) |
| কার্যকর হয় | ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ (বিজয় দিবসের প্রথম বর্ষপূর্তিতে) |
| ভাগ বা অধ্যায় সংখ্যা | মোট ১১টি |
| অনুচ্ছেদ বা ধারা সংখ্যা | মোট ১৫৩টি |
| তফসিল সংখ্যা | ৭টি |
| মূল ভাষা | বাংলা ও ইংরেজি (বিরোধ দেখা দিলে বাংলা প্রাধান্য পাবে) |
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার
বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার ৪টি মূলনীতির কথা বলা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮)। এগুলো হলো— জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা।
অন্যদিকে, সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (২৭ থেকে ৪৪ নং অনুচ্ছেদ) নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের (Fundamental Rights) কথা বলা হয়েছে। আইনের দৃষ্টিতে সমতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ অধিকারগুলো এখানে সুরক্ষিত করা হয়েছে, যা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের জানা উচিত।
কেন এই সংবিধান বইটি আপনার জন্য প্রয়োজন?
- বিসিএস ও সরকারি চাকরির প্রস্তুতি: বিসিএস প্রিলিমিনারি এবং লিখিত পরীক্ষায় সংবিধানের ধারা, সংশোধনী (Amendments) এবং তফসিল থেকে অনেক প্রশ্ন আসে।
- বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ও ‘ঘ’ ইউনিট এবং আইন বিভাগে ভর্তির জন্য সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলো জানা আবশ্যক।
- আইনজীবীদের রেফারেন্স: আইনের ছাত্র এবং প্র্যাকটিসিং আইনজীবীদের প্রতিদিনের রেফারেন্স হিসেবে এটি অপরিহার্য।