মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

ভারতের সমস্ত মহাকাশ অভিযান তালিকা PDF | Indian Space Missions

ভারতের সমস্ত মহাকাশ অভিযান তালিকা PDF | ISRO Space Missions List In Bengali

ভারতের সমস্ত মহাকাশ অভিযান তালিকা ও ইসরো জিকে - ISRO Space Missions List in Bengali for Competitive Exams
ইসরো জিকে: ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশন এবং তাদের খুঁটিনাটি

📌 একনজরে সারসংক্ষেপ:

সরকারি চাকরির পরীক্ষার (যেমন- WBCS, SSC, RRB, বা UPSC) প্রস্তুতি নিচ্ছেন? ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) বা ইসরোর বিভিন্ন অভিযান থেকে এখন প্রায় সব পরীক্ষাতেই প্রশ্ন আসে। "আর্যভট্ট কবে লঞ্চ হয়?", "চন্দ্রযান-৩ কবে চাঁদে নেমেছিল?" বা "গগনযান মিশন কী?"— এই ধরনের প্রশ্নগুলো খুবই কমন। আপনাদের রিভিশনের সুবিধার জন্য ইসরোর সমস্ত (৩২টি) গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ অভিযানের তালিকা নিচে ছকের মাধ্যমে দেওয়া হলো। সাথে থাকছে রিভিশনের জন্য একটি PDF নোটস।

ভূমিকা

Hello Aspirants,

জেনারেল নলেজ বা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ার সময় 'বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি' পার্টটা অনেকের কাছেই বেশ বোরিং লাগে। বিশেষ করে ইসরোর (ISRO) এত এত স্যাটেলাইট আর রকেটের নাম মনে রাখা বেশ ঝামেলার। কিন্তু বিগত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্র ঘাঁটলে দেখবেন, এই 'ভারতের মহাকাশ অভিযান তালিকা' (ISRO Missions List) থেকে প্রতি বছরই প্রশ্ন আসছে।

চাঁদের মাটিতে সফট ল্যান্ডিং হোক বা সূর্যের কাছে স্যাটেলাইট পাঠানো— বিশ্বের বুকে ভারতের মহাকাশ গবেষণা আজ এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাই বইয়ের খটমটে ভাষা বাদ দিয়ে, একদম সহজ কথায় ইসরোর সমস্ত মিশনগুলোর নাম ও তাদের অর্জন নিচে গুছিয়ে দেওয়া হলো।

মহাকাশ অভিযান বা মিশন আসলে কী?

খুব সোজা ভাষায় বলতে গেলে, পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে স্যাটেলাইট, রোভার বা মানুষ পাঠানোর জন্য ইসরো (ISRO) যেসব প্রজেক্ট হাতে নেয়, সেগুলোকেই মহাকাশ অভিযান (Space Mission) বলা হয়। যেমন আবহাওয়া জানার জন্য, নেভিগেশন বা ম্যাপ দেখার জন্য, কিংবা চাঁদের মাটিতে কী আছে তা খোঁজার জন্য ইসরো বিভিন্ন সময় রকেট পাঠায়। এই প্রত্যেকটা প্রজেক্টেরই একটা নির্দিষ্ট নাম ও উদ্দেশ্য থাকে।

ভারতের সম্পূর্ণ মহাকাশ অভিযান তালিকা (১৯৭৫-২০২৭)

নিচে ভারতের স্পেস সেক্টরের প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মোট ৩২টি দরকারি মিশন, লঞ্চের সাল এবং প্রধান অর্জনগুলো সহজ করে দেওয়া হলো:

লাল রঙে হাইলাইট করা নামগুলো বিগত বছরের বিভিন্ন পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশিবার জানতে চাওয়া হয়েছে।
ভারতের সম্পূর্ণ মহাকাশ অভিযান তালিকা
অভিযানের নাম (Mission) বছর প্রধান উদ্দেশ্য বা অর্জন (Key Achievement)
আর্যভট্ট (Aryabhata) ১৯৭৫ ভারতের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ। প্রাচীন ভারতীয় গণিতজ্ঞের নামে এর নামকরণ করা হয় (রাশিয়ার সাহায্যে লঞ্চ হয়েছিল)।
ভাস্কর-১ (Bhaskara-I) ১৯৭৯ ভারতের প্রথম রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট, যা মূলত জলবিদ্যা ও বনভূমি পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
ভাস্কর-২ (Bhaskara-II) ১৯৮১ রিমোট সেন্সিং এবং মাইক্রোওয়েভ পর্যবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য লঞ্চ করা হয়।
অ্যাপল (APPLE) ১৯৮১ এটি ছিল ভারতের প্রথম এক্সপেরিমেন্টাল জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশন বা টেলিযোগাযোগ স্যাটেলাইট।
ইনস্যাট-১এ (INSAT-1A) ১৯৮২ ভারতের প্রথম অপারেশনাল কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট (INSAT মানে Indian National Satellite System)।
আইআরএস-১এ (IRS-1A) ১৯৮৮ ভারতের প্রথম সফল অপারেশনাল রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট (IRS মানে Indian Remote Sensing)।
পিএসএলভি-ডি১ (PSLV-D1) ১৯৯৩ PSLV রকেটের প্রথম উড়ান। এটি ব্যর্থ হলেও ভবিষ্যৎ PSLV রকেটের সাফল্যের ভিত গড়ে দিয়েছিল।
আইআরএস-পি৩ (IRS-P3) ১৯৯৬ এটি ছিল PSLV রকেটের প্রথম পুরোপুরি সফল মিশন।
ইনস্যাট-২ই (INSAT-2E) ১৯৯৯ এটি একটি অ্যাডভান্সড কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট, যা ইনস্যাট পরিষেবাকে আরও উন্নত করেছিল।
টেস (TES) ২০০১ হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা যুক্ত স্যাটেলাইট (Technology Experiment Satellite)। এখান থেকেই ইসরোর হাই-রেজোলিউশন ছবি তোলার যুগের শুরু।
কল্পনা-১ (Kalpana-1 / MetSat-1) ২০০২ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতের প্রথম ডেডিকেটেড স্যাটেলাইট। ২০০৩ সালে মহাকাশচারী কল্পনা চাওলার মৃত্যুর পর এর নাম বদলানো হয়।
জিস্যাট-২ (GSAT-2) ২০০৩ GSLV রকেটের প্রথম সফল অপারেশনাল উড়ান। এতে ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন টেস্ট করা হয়েছিল।
এডুস্যাট (EDUSAT / GSAT-3) ২০০৪ বিশ্বের প্রথম স্যাটেলাইট যা শুধুমাত্র শিক্ষামূলক পরিষেবার জন্য তৈরি। এর সাহায্যে দূরদর্শনে শিক্ষার অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়।
কার্টোস্যাট-১ (Cartosat-1) ২০০৫ ম্যাপ বানানো এবং নগর পরিকল্পনার জন্য হাই-রেজোলিউশন থ্রিডি (3D) ছবি তোলার স্যাটেলাইট।
চন্দ্রযান-১ (Chandrayaan-1) ২০০৮ ভারতের প্রথম চন্দ্র অভিযান। এই মিশনটি চাঁদের মাটিতে জলের অণুর সন্ধান পেয়েছিল, যা পুরো বিশ্বকে চমকে দেয়।
রিস্যাট-২ (RISAT-2) ২০০৯ ভারতের প্রথম রাডার ইমেজিং স্যাটেলাইট। যেকোনো আবহাওয়ায় বর্ডারে নজরদারি চালানোর ক্ষমতা এর ছিল।
ওশেনস্যাট-২ (Oceansat-2) ২০০৯ সমুদ্রের জলের রঙ, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং হাওয়ার গতিবিধি নজরে রাখার জন্য এটিকে পাঠানো হয়।
রিস্যাট-১ (RISAT-1) ২০১২ ভারতের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (SAR) স্যাটেলাইট। এটি মেঘলা আবহাওয়াতেও ছবি তুলতে পারে।
সরল (SARAL) ২০১৩ ফরাসি স্পেস এজেন্সির (CNES) সাথে মিলে তৈরি এই স্যাটেলাইট সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাপার কাজ করে।
মঙ্গলযান (Mangalyaan / MOM) ২০১৩ প্রথম চেষ্টাতেই মঙ্গল গ্রহে পৌঁছানো প্রথম দেশ হলো ভারত। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও ভারতই প্রথম এই রেকর্ড গড়ে।
জিস্যাট-১৬ (GSAT-16) ২০১৪ কমিউনিকেশন বা যোগাযোগের জন্য পাঠানো তৎকালীন সবচেয়ে বড় ভারতীয় স্যাটেলাইট।
অ্যাস্ট্রোস্যাট (Astrosat) ২০১৫ এটি মহাকাশ গবেষণার জন্য ভারতের প্রথম ডেডিকেটেড স্পেস অবজারভেটরি (Space Observatory)।
পিএসএলভি সি-৩৭ (PSLV-C37) ২০১৭ একই সাথে ১০৪টি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ইসরো। এর মধ্যে ১০১টি ছিল বিদেশি স্যাটেলাইট।
ন্যাভিক (IRNSS / NavIC) ২০১৩-১৮ ভারতের নিজস্ব জিপিএস (GPS) সিস্টেম। ৭টি স্যাটেলাইটের এই নেটওয়ার্ক ভারতের মূল ভূখণ্ড ও চারপাশের ১৫০০ কিমি এলাকা কভার করে।
চন্দ্রযান-২ (Chandrayaan-2) ২০১৯ চাঁদের কক্ষপথে অরবিটার সফলভাবে পৌঁছালেও, এর 'বিক্রম' ল্যান্ডারটি চাঁদে সফট ল্যান্ডিং করার ঠিক আগে ক্র্যাশ করে যায়।
ইওএস-০১ (EOS-01) ২০২০ কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে লঞ্চ হওয়া আর্থ অবজারভেশন বা পৃথিবী পর্যবেক্ষক রাডার ইমেজিং স্যাটেলাইট।
ওয়ানওয়েব ইন্ডিয়া-১ (OneWeb India-1) ২০২৩ LVM3 রকেট ব্যবহার করে ইসরো বাণিজ্যিক চুক্তিতে ৩৬টি ব্রডব্যান্ড স্যাটেলাইট লঞ্চ করে।
চন্দ্রযান-৩ (Chandrayaan-3) ২০২৩ ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্য! ২৩শে আগস্ট ২০২৩ তারিখে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে সফলভাবে ল্যান্ড করে ভারত বিশ্বের প্রথম দেশ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
আদিত্য-এল১ (Aditya-L1) ২০২৩ ভারতের প্রথম সূর্য পর্যবেক্ষণ মিশন। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট (L1)-এ থেকে সূর্যের করোনা স্তর নিয়ে গবেষণা করছে।
এক্সপোস্যাট (XPoSat) ২০২৪ ব্ল্যাক হোল এবং নিউট্রন স্টার নিয়ে গবেষণার জন্য এটি ভারতের প্রথম এক্স-রে পোলারিমেট্রি মিশন।
ইনস্যাট-৩ডিএস (INSAT-3DS) ২০২৪ উন্নত আবহাওয়া পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট, যা আগের থেকে অনেক বেশি নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে পারে।
গগনযান (Gaganyaan) ২০২৬-২৭ ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ অভিযান। এর মাধ্যমে ৩ জন ভারতীয় মহাকাশচারীকে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (LEO) পাঠানোর মেগা প্রজেক্ট চলছে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য স্পেশাল টিপস (VIP Facts):

  • চাঁদের দক্ষিণ মেরু: চন্দ্রযান-৩ এর সাফল্যের পর ভারত বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে পৌঁছানোর রেকর্ড গড়েছে, আর সফট ল্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ভারত চতুর্থ দেশ (আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের পর)।
  • ন্যাশনাল স্পেস ডে: ২৩শে আগস্ট ২০২৩ তারিখে চন্দ্রযান-৩ চাঁদে সফলভাবে ল্যান্ড করেছিল। তাই এই দিনটিকে ভারত সরকার 'জাতীয় মহাকাশ দিবস' (National Space Day) হিসেবে ঘোষণা করেছে।
  • মঙ্গলযানের খরচ: ভারতের প্রথম মঙ্গল অভিযানের খরচ ছিল মাত্র ৪৫০ কোটি টাকা, যা হলিউডের জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন সিনেমা "গ্রাভিটি" (Gravity) তৈরির খরচের থেকেও কম!
  • ইসরোর লঞ্চ ভেহিকেল: ইসরোর সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রকেট হলো PSLV (Polar Satellite Launch Vehicle), আর সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভারী রকেট হলো LVM3 (যাতে করে চন্দ্রযান-৩ ও গগনযান পাঠানো হচ্ছে)।
ইসরোর মহাকাশ অভিযানের এই অত্যন্ত দরকারি তালিকাটি নিচে পিডিএফ ফরম্যাটে দেওয়া হলো, যাতে আপনারা অফলাইনে বা প্রিন্ট করেও পড়তে পারেন।

ফাইল ডিটেইলস

File Details:

  • File Name: ভারতের সমস্ত মহাকাশ অভিযান তালিকা
  • File Format: PDF
  • No. of Pages: 4
  • File Size: 303 KB

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহের নাম কী?
ভারতের প্রথম নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহের নাম হলো 'আর্যভট্ট', যা ১৯৭৫ সালে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল।
চন্দ্রযান-৩ মিশন কবে চাঁদে ল্যান্ড করেছিল?
চন্দ্রযান-৩ মিশনটি ২৩শে আগস্ট ২০২৩ তারিখে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে সফলভাবে সফট ল্যান্ড করেছিল।
মঙ্গলযান মিশন কবে লঞ্চ করা হয়?
ভারতের প্রথম মঙ্গল অভিযান বা 'মঙ্গলযান' (MOM) ২০১৩ সালে লঞ্চ করা হয়েছিল, যা প্রথম চেষ্টাতেই সফল হয়।
ইসরোর গগনযান প্রজেক্ট আসলে কী?
গগনযান হলো ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ মিশন, যার মাধ্যমে ভারতীয় মহাকাশচারীদের পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (Low Earth Orbit) পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আদিত্য-এল১ (Aditya-L1) মিশন কেন পাঠানো হয়েছে?
আদিত্য-এল১ হলো ভারতের প্রথম সৌর মিশন বা সূর্য পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট। সূর্য ও তার করোনা স্তর নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করার জন্যই এটি পাঠানো হয়েছে।

💡 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই দরকারি নোটসটি আপনাদের উপকারে আসলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন!