Breaking

Thursday, August 13, 2026

ভারতের জাতীয় পতাকা জিকে প্রশ্ন উত্তর PDF | Indian National Flag GK in Bengali

ভারতের জাতীয় পতাকা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ জিকে প্রশ্ন ও উত্তর | Indian National Flag GK PDF

ভারতের জাতীয় পতাকা জিকে প্রশ্ন উত্তর PDF
জাতীয় পতাকা জিকে প্রশ্ন উত্তর PDF

নমস্কার বন্ধুরা,

যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, যেমন—WBCS, WBP, KP, SSC, Railway বা Primary TET-এর জন্য 'সাধারণ জ্ঞান' বা GK অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর মধ্যে "ভারতের জাতীয় পতাকা" (Indian National Flag) থেকে প্রায়শই বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন এসে থাকে।

পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে আজ আমরা ভারতের জাতীয় পতাকা সম্পর্কিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিকে প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়া, পোস্টের শেষে এই সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলির একটি PDF ডাউনলোড লিঙ্ক দেওয়া রয়েছে, যা আপনারা বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন।

পতাকার তিনটি রং ও চক্রের অন্তর্নিহিত অর্থ

বর্তমান জাতীয় পতাকার রূপকার হলেন পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া। ২২শে জুলাই ১৯৪৭ তারিখে ভারতের গণপরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নকশাটিকে দেশের জাতীয় পতাকা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। আমাদের পতাকাকে তিনটি সমান মাপের অনুভূমিক অংশে ভাগ করা হয়েছে, যার প্রতিটি রঙের বিশেষ অর্থ রয়েছে:

  • গেরুয়া (সবার উপরে): এই রংটি দেশনেতা ও নাগরিকদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং সাহসিকতার বার্তা দেয়। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে সবসময় দেশের স্বার্থকে রাখতে হবে।
  • সাদা (মাঝখানে): শুভ্র রংটি মূলত শান্তি, সততা এবং সত্যের পথ নির্দেশ করে।
  • সবুজ (সবার নিচে): এই রংটি আমাদের দেশের কৃষিভিত্তিক সমৃদ্ধি, উর্বরতা এবং মাটির প্রতি গভীর বিশ্বাসকে তুলে ধরে।
  • অশোক চক্র: পতাকার ঠিক মাঝখানে থাকা সাদা অংশের ওপর গাঢ় নীল রঙের একটি চক্র থাকে। সারনাথের অশোক স্তম্ভ থেকে অনুপ্রাণিত এই চক্রে ২৪টি স্পোক বা কাঁটা রয়েছে। এটি মূলত ন্যায়বিচার, সমতা ও অবিরাম প্রগতির প্রতীক।

পতাকার বিবর্তনের ঐতিহাসিক যাত্রাপথ

স্বাধীনতা সংগ্রামের আগুন যত তীব্র হয়েছে, পতাকার রূপও ততবার পাল্টেছে। তেরঙ্গার বর্তমান রূপে পৌঁছানোর পেছনের ইতিহাসটি বেশ আকর্ষণীয়:

  1. ভগিনী নিবেদিতার উদ্যোগ (১৯০৪): স্বামী বিবেকানন্দের অনুপ্রেরণায় ভগিনী নিবেদিতা প্রথম একটি পতাকার নকশা তৈরি করেন। লাল-হলুদ রঙের সেই পতাকার কেন্দ্রে ছিল একটি বজ্র ও শ্বেতপদ্ম, আর লেখা ছিল 'বন্দে মাতরম'।
  2. স্বদেশী আন্দোলনের সময় (১৯০৬): হেমচন্দ্র কানুনগো এবং শচীন্দ্র প্রসাদ বসুর তৈরি একটি পতাকা কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে উত্তোলন করা হয়। এতে লাল, হলুদ ও সবুজ রঙের তিনটি ভাগ ছিল।
  3. বিদেশের মাটিতে প্রথম উত্তোলন (১৯০৭): মাদাম ভিকাজী কামা জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে প্রথমবার একটি ভারতীয় পতাকা ওড়ান, যা 'সপ্তর্ষি পতাকা' নামেও পরিচিত ছিল।
  4. হোমরুল আন্দোলন (১৯১৭): বাল গঙ্গাধর তিলক এবং ডঃ অ্যানি বেসান্ত আন্দোলনের সময় একটি নতুন পতাকা ব্যবহার করেন, যার এক কোণে ব্রিটিশদের ইউনিয়ন জ্যাক আঁকা ছিল।
  5. চরকাযুক্ত পতাকা (১৯২১-১৯৩১): ১৯২১ সালে পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া একটি পতাকার নকশা তৈরি করে মহাত্মা গান্ধীকে উপহার দেন। ১৯৩১ সালে জাতীয় কংগ্রেস সেই গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের এবং মাঝখানে চরকা আঁকা পতাকাকেই আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়।
  6. চূড়ান্ত স্বীকৃতি (১৯৪৭): স্বাধীনতার প্রাক্কালে চরকার স্থান নেয় 'অশোক চক্র' এবং তেরঙ্গা তার বর্তমান রূপ লাভ করে।

আইনি মর্যাদা ও পতাকা বিধি (Flag Code of India)

  • সংবিধানের ৫১এ(ক) ধারা অনুযায়ী, জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের অন্যতম মৌলিক কর্তব্য। ২০০২ সালের 'ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া' এবং আরও কিছু আইনের মাধ্যমে পতাকা ব্যবহারের বেশ কিছু নিয়ম নির্দিষ্ট করা হয়েছে:
  • অনুপাত: পতাকার সাইজ ছোট বা বড় যাই হোক না কেন, এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত সবসময় ৩:২ হওয়া বাধ্যতামূলক।
  • উত্তোলনের সময়: আগে কেবল দিনের বেলায় পতাকা ওড়ানোর নিয়ম থাকলেও, এখন সঠিক মর্যাদা বজায় রেখে সাধারণ মানুষ দিন-রাত সবসময় খোলা জায়গায় তেরঙ্গা ওড়াতে পারেন।
  • অবমাননা রোধ: পতাকাকে কোনো অবস্থাতেই মেঝে বা জলে স্পর্শ করানো যাবে না। একে সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে বা পোশাক হিসেবে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • নিষ্কাশন: যদি কোনো কারণে পতাকা ছিঁড়ে যায় বা রং নষ্ট হয়ে যায়, তবে তাকে যত্রতত্র ফেলে দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন পরিস্থিতিতে সবার আড়ালে সম্পূর্ণ সম্মানের সাথে সেটিকে পুড়িয়ে নষ্ট করার নিয়ম রয়েছে।
⚠️ ২০২২ সালের সংশোধিত ভারতের পতাকা বিধির সারসংক্ষেপ:

১. দিন-রাত পতাকা উত্তোলন: এখন থেকে সাধারণ নাগরিকরা তাঁদের বাড়িতে বা খোলা জায়গায় দিন ও রাত (২৪ ঘণ্টা) সবসময় জাতীয় পতাকা উড়িয়ে রাখতে পারবেন।

২. পলিয়েস্টার ও মেশিনে তৈরি পতাকা: সংশোধিত নিয়মে পলিয়েস্টার কাপড়ে এবং মেশিনে তৈরি জাতীয় পতাকাও সম্পূর্ণ বৈধভাবে ব্যবহার করা যাবে।

৩. মর্যাদা অটুট রাখা: নিয়ম শিথিল হলেও পতাকার সম্মান রক্ষার নিয়মগুলি অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, ছেঁড়া বা নোংরা পতাকা ওড়ানো আগের মতোই সম্পূর্ণ বেআইনি।

ভারতের জাতীয় পতাকা সম্পর্কিত ২৭টি সহজ জিকে প্রশ্ন ও উত্তর

১. প্রশ্ন: বর্তমান জাতীয় পতাকার ডিজাইন বা নকশা কে তৈরি করেছিলেন?
উত্তর: পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া।

২. প্রশ্ন: স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে সবার বাড়িতে পতাকা ওড়ানোর জন্য সরকার কোন প্রচার অভিযান শুরু করেছিল?
উত্তর: হর ঘর তেরঙ্গা।

৩. প্রশ্ন: পতাকার মাঝখানের সাদা অংশে কীসের ছবি থাকে?
উত্তর: অশোক চক্র।

৪. প্রশ্ন: নিয়ম অনুযায়ী সরকারিভাবে ওড়ানোর জন্য জাতীয় পতাকা কোন কাপড়ের তৈরি হওয়া উচিত?
উত্তর: খাদি কাপড়ের।

৫. প্রশ্ন: জাতীয় পতাকার একেবারে ওপরের রংটি কী?
উত্তর: গেরুয়া।

৬. প্রশ্ন: ১৫ই আগস্ট বা স্বাধীনতা দিবসের দিন দিল্লির লালকেল্লায় কে পতাকা উত্তোলন করেন?
উত্তর: ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

৭. প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় পতাকায় মোট কটি রঙের ডোরা বা দাগ আছে?
উত্তর: ৩টি।

৮. প্রশ্ন: পতাকার একেবারে নিচের সবুজ রং কী বোঝায়?
উত্তর: উর্বরতা, বৃদ্ধি এবং শুভকামনার প্রতীক।

৯. প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় পতাকাকে হিন্দিতে সাধারণত কী নামে ডাকা হয়?
উত্তর: তেরঙ্গা।

১০. প্রশ্ন: আমাদের জাতীয় পতাকাকে কবে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল?
উত্তর: ২২শে জুলাই, ১৯৪৭ সালে।

১১. প্রশ্ন: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী (BIS) জাতীয় পতাকার মোট কটি নির্দিষ্ট মাপ বা সাইজ রয়েছে?
উত্তর: ৯টি।

১২. প্রশ্ন: পতাকার গেরুয়া রং কীসের প্রতীক?
উত্তর: সাহস ও শক্তির প্রতীক।

১৩. প্রশ্ন: চূড়ান্ত নকশা তৈরি হওয়ার আগে, ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর পছন্দ করা পতাকার মাঝখানে কীসের ছবি ছিল?
উত্তর: চরকা।

১৪. প্রশ্ন: সরকারি নিয়ম (ফ্ল্যাগ কোড) অনুযায়ী, কারা জাতীয় পতাকা ওড়াতে পারেন?
উত্তর: দেশের যেকোনো সাধারণ নাগরিক, বেসরকারি সংস্থা এবং স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

১৫. প্রশ্ন: জাতীয় পতাকা কখন অর্ধেক নামিয়ে (অর্ধনমিত) রাখা হয়?
উত্তর: সরকার ঘোষিত কোনো জাতীয় শোকের দিনে।

১৬. প্রশ্ন: অশোক চক্রের ভেতরে থাকা ২৪টি কাঁটা বা স্পোক কীসের প্রতীক?
উত্তর: ন্যায়ের ২৪টি নীতির প্রতীক।

১৭. প্রশ্ন: দেশ স্বাধীনের আগে ভারতের কোন রাজনৈতিক দল প্রথমবার জাতীয় পতাকার একটি বিশেষ রূপকে গ্রহণ করেছিল?
উত্তর: জাতীয় কংগ্রেস।

১৮. প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় পতাকার লম্বা (দৈর্ঘ্য) ও চওড়ার (প্রস্থ) অনুপাত কত?
উত্তর: ৩:২।

১৯. প্রশ্ন: জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষার্থে ভারতে মূলত কোন আইনটি প্রয়োগ করা হয়?
উত্তর: ১৯৭১ সালের 'প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট' (Prevention of Insults to National Honour Act, 1971)।

২০. প্রশ্ন: জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও উচ্চতার সঠিক অনুপাত কত হওয়া উচিত?
উত্তর: ৩:২।

২১. প্রশ্ন: ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকা কবে এবং কোথায় ওড়ানো হয়েছিল?
উত্তর: ১৯০৬ সালের ৭ই আগস্ট, কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে (গ্রিন পার্কে)।

২২. প্রশ্ন: পতাকার মাঝখানে থাকা 'অশোক চক্রের' রং কী?
উত্তর: গাঢ় নীল (Navy Blue)।

২৩. প্রশ্ন: জাতীয় পতাকার মাঝখানের সাদা রংটি কীসের প্রতীক?
উত্তর: শান্তি, সত্য ও পবিত্রতার প্রতীক।

২৪. প্রশ্ন: বিদেশের মাটিতে প্রথম কে ভারতের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন?
উত্তর: মাদাম ভিকাজী কামা (১৯০৭ সালে, জার্মানির স্টুটগার্টে)।

২৫. প্রশ্ন: পতাকার মাঝখানের 'অশোক চক্র' কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: উত্তরপ্রদেশের সারনাথে অবস্থিত অশোক স্তম্ভ থেকে।

২৬. প্রশ্ন: ভারতীয় সংবিধানের কোন ধারা অনুযায়ী জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানো প্রতিটি নাগরিকের 'মৌলিক কর্তব্য' (Fundamental Duty)?
উত্তর: ৫১এ(ক) ধারা বা Article 51A(a) অনুযায়ী।

২৭. প্রশ্ন: ২০২২ সালের সংশোধিত পতাকা বিধি অনুযায়ী সাধারণ মানুষ কি রাতেও জাতীয় পতাকা ওড়াতে পারেন?
উত্তর: হ্যাঁ, নতুন নিয়ম অনুযায়ী খোলা জায়গায় দিন-রাত (২৪ ঘণ্টা) সবসময় পতাকা ওড়ানো যায়।

📥 File Details & Download

  • File Name: Indian-National-Flag-GK-Bengali.pdf
  • File Format: PDF
  • No. of Pages: 3
  • File Size: 280 KB

জাতীয় পতাকা জিকে Download PDF

No comments:

Post a Comment

Dont Leave Any Spam Link