বায়ুমন্ডলের বিভিন্ন স্তর প্রশ্ন উত্তর PDF | বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস
![]() |
| বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর তালিকা PDF |
Hello Dear,
আজ প্রাকৃতিক ভূগোল এবং পরিবেশের অংশ হিসাবে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের বিভিন্ন স্তর সমূহ PDFটি আপনাদের বিনামূল্যে প্রদান করছি। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের কয়টি স্তর ও কী কী?- এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখানে আলোচনা করা হলো। তাই নীচ থেকে পড়ে নিন এবং প্রয়োজনে পিডিএফটিও ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
বায়ুমন্ডলের স্তর বিন্যাস
১. ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere) – আমাদের ক্ষুব্ধমণ্ডল
- নামকরণ: গ্রিক শব্দ ‘Tropos’ (যার অর্থ ঘূর্ণন বা মিশ্রণ) এবং ‘Sphere’ (যার অর্থ মণ্ডল) থেকে এই স্তরের নামটির উৎপত্তি হয়েছে।
- উচ্চতা: ভূপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা সব জায়গায় সমান নয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে এটি প্রায় ১৮ কিমি এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- প্রধান বৈশিষ্ট্য: বায়ুমণ্ডলের মোট গ্যাসীয় উপাদানের ৭৫% এবং জলীয় বাষ্পের প্রায় ১০০%-ই এই স্তরে অবস্থান করে, তাই একে 'ঘনমণ্ডল' বলা হয়।
- আবহাওয়ার গোলযোগ: ঝড়, বৃষ্টি, কুয়াশা ও বজ্রপাতের মতো সমস্ত বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনা এই স্তরেই সবচেয়ে বেশি ঘটে। এই অস্থিরতার কারণে ট্রপোস্ফিয়ারকে 'ক্ষুব্ধমণ্ডল' নামে ডাকা হয়।
- ট্রপোপজ (Tropopause): ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমায় প্রায় ৩ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রা কমেও না, বাড়েও না। এই স্থির তাপমাত্রার অঞ্চলকে সমতাপ অঞ্চল বা 'ট্রপোপজ' বলে।
২. স্ট্রাটোস্ফিয়ার (Stratosphere) – শান্তমণ্ডল ও বিমান চলাচল
- নামকরণ: লাতিন শব্দ ‘Stratum’ (যার অর্থ স্তর) থেকে স্ট্রাটোস্ফিয়ার শব্দটির সৃষ্টি। এটি ট্রপোপজের ওপর থেকে প্রায় ৫০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- উচ্চতা ও তাপমাত্রা: এই স্তরে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উষ্ণতা বাড়তে থাকে এবং এর শেষ প্রান্তে তাপমাত্রা প্রায় ৪° সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
- শান্তমণ্ডল: এখানকার বাতাস অত্যন্ত পাতলা, শুষ্ক ও মেঘহীন। কোনো ধরনের ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় না থাকায় একে 'শান্তমণ্ডল' বলে। আর এই শান্ত পরিবেশের সুুযোগ নিয়েই দ্রুতগামী জেট বিমানগুলো এই স্তরের মধ্য দিয়ে চলাচল করে।
- স্ট্র্যাটোপজ (Stratopause): স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমার যে অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি থমকে যায়, তাকে 'স্ট্র্যাটোপজ' বলা হয়।
৩. ওজোন স্তর (Ozone Layer) – পৃথিবীর প্রাকৃতিক সৌরপর্দা
- গঠন ও অবস্থান: ওজোন (O₃) হলো একটি নীলাভ এবং আঁশটে গন্ধযুক্ত গ্যাস। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫-৩৫ কিমি উচ্চতায় এই গ্যাসের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে।
- প্রাকৃতিক সৌরপর্দা: এই স্তরটি সূর্য থেকে আসা মারাত্মক ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির (UV Rays) প্রায় ৯৭-৯৯% শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে। তাই একে পৃথিবীর 'প্রাকৃতিক সৌরপর্দা' বলা হয়। ১৮৪০ সালে বিজ্ঞানী কোনবি প্রথম বায়ুমণ্ডলে এই গ্যাসের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেন।
- ঘনত্ব পরিমাপ: ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব মাপা হয় 'ডবসন' (Dobson Unit - DU) এককে। বিজ্ঞানী ডবসনের আবিষ্কৃত 'স্পেকট্রোফটোমিটার' যন্ত্রের সাহায্যে এটি পরিমাপ করা হয়। প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ০.০১ মিমি পুরু ওজোন স্তরের ঘনত্বকে ১ ডবসন ধরা হয়।
- ওজোন গহ্বর (Ozone Hole): এই গ্যাসের ঘনত্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলে কম এবং মেরু অঞ্চলে বেশি থাকে। ওজোন স্তরের ঘনত্ব ২০০ DU-এর নিচে নেমে গেলে তাকে ওজোন গহ্বর বলে। এর জন্য প্রধানত দায়ী ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) গ্যাস। অ্যান্টার্কটিকার ঊর্ধ্বাকাশে এই স্তরের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
৪. মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere) – শীতলতম স্তর
- বিস্তার: গ্রিক শব্দ ‘Meso’ শব্দের অর্থ মধ্যভাগ। স্ট্র্যাটোপজের ওপর থেকে প্রায় ৮০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত অংশকে মেসোস্ফিয়ার বলে।
- তাপমাত্রা: এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। ৮০ কিমি উচ্চতায় তাপমাত্রা কমে প্রায় -১০০° সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
- উল্কাপাত ও মেঘ: মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বুকে ধেয়ে আসা উল্কাপিণ্ডগুলো এই স্তরে এসেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া এই স্তরে এক ধরনের অতি হালকা মেঘ দেখা যায়, যাকে 'নৈশদ্যুতি মেঘ' বলে। এর ঊর্ধ্বসীমাকে বলা হয় 'মেসোপজ'।
৫. থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার (Ionosphere) – বেতার তরঙ্গের প্রতিফলক
- বিস্তার: মেসোপজের ওপরে প্রায় ৫০০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এই স্তরটি বিস্তৃত। এখানে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে বলে একে থার্মোস্ফিয়ার বলা হয়।
- বেতার তরঙ্গ প্রতিফলন: এই স্তরের নিচের অংশে বায়ু কণাগুলো সূর্যরশ্মির প্রভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে, তাই এর অপর নাম আয়নোস্ফিয়ার। ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গগুলো (Radio Waves) এই স্তরে বাধা পেয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে। যার ফলে আমরা ঘরে বসেই রেডিওর বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা খবর শুনতে পাই।
- মেরুজ্যোতি (Aurora): এই স্তরেই চমৎকার মেরুজ্যোতি সৃষ্টি হয়। উত্তর মেরুতে একে 'অরোরা বোরিয়ালিস' এবং দক্ষিণ মেরুতে 'অরোরা অস্ট্রালিস' বলা হয়।
৬. এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere)
- বিস্তার ও উপাদান: এটি আয়নোস্ফিয়ারের ওপর থেকে প্রায় ৭৫০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে আণবিক অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের আধিক্য দেখা যায়।
- উষ্ণতা: এই স্তরের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১২০০°C থেকে ১৬০০°C এর মধ্যে থাকে। তবে বাতাসের ঘনত্ব অত্যন্ত কম হওয়ার কারণে এই তীব্র উষ্ণতা আমরা অনুভব করতে পারি না।
৭. ম্যাগনেটোস্ফিয়ার (Magnetosphere) – পৃথিবীর শেষ সীমানা
- পরিচয়: এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তর এবং পৃথিবীর শেষ সীমা। সৌরবায়ু থেকে নির্গত ইলেকট্রন ও প্রোটন কণা দ্বারা গঠিত একটি চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে।
- ম্যাগনেটোপজ: এই স্তরে পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের কার্যকারিতা যেখানে এসে স্থির হয়ে যায়, তাকে 'ম্যাগনেটোপজ' বলে।
- ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয়: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০০ কিমি এবং ১৬০০০ কিমি উচ্চতায় দুটি ঘন বলয়যুক্ত চৌম্বকীয় অংশ দেখা যায়, যা 'ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয়' (Van Allen Radiation Belt) নামে পরিচিত।
বায়ুমন্ডলের স্তরের তথ্য গুলি পিডিএফে আছে
File Details::
File Name:বায়ুমন্ডলের বিভিন্ন স্তর সমূহ
File Format: PDF
No. of Pages:2
File Size:620 KB
Click Here to Download
