বিভিন্ন ভাষায় রামায়নের রচয়িতা PDF | বিভিন্ন ভাষায় রামায়ণ: এক মহাকাব্য, বহু রচয়িতা
![]() |
| বিভিন্ন ভাষায় রামায়ণের রচয়িতা PDF |
রামায়ণ কেবল একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনবোধের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আদর্শ রাজা, আদর্শ ভ্রাতা, আদর্শ স্ত্রী এবং ভক্তির এমন অপূর্ব নিদর্শন বিশ্বসাহিত্যে বিরল। তবে রামায়ণের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকটি হলো এর বৈচিত্র্য।
মূল রামায়ণ সংস্কৃতে রচিত হলেও, ভারতের প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি ভাষায় এটি ভিন্ন ভিন্ন রূপে, ভিন্ন ভিন্ন কবির হাত ধরে পুনর্জন্ম লাভ করেছে। চলুন আজকের ব্লগে জেনে নিই বিভিন্ন ভাষায় রামায়ণের প্রধান রচয়িতাদের নাম সম্পর্কে।
বিভিন্ন ভাষায় রামায়ণের রচয়িতা
১. সংস্কৃত রামায়ন: মহর্ষি বাল্মীকি
রামায়ণের মূল রচয়িতা হলেন মহর্ষি বাল্মীকি। তাঁর রচিত এই মহাকাব্যকে বলা হয় ‘আদিকাব্য’ এবং তাঁকে বলা হয় ‘আদিকবি’। ২৪,০০০ শ্লোক বিশিষ্ট বাল্মীকি রামায়ণই হলো অন্যান্য সমস্ত রামায়ণের মূল অনুপ্রেরণা।
২. বাংলা রামায়ন: কৃত্তিবাস ওঝা
বাঙালিদের কাছে রামায়ণ মানেই ‘কৃত্তিবাসী রামায়ণ’। পঞ্চদশ শতাব্দীতে কবি কৃত্তিবাস ওঝা এই মহাকাব্যটি বাংলায় অনুবাদ করেন। এটি কেবল সংস্কৃত রামায়ণের আক্ষরিক অনুবাদ নয়; কৃত্তিবাস বাংলার মাটি, প্রকৃতি ও বাঙালি সংস্কৃতির ছাঁচে রামায়ণকে নতুন করে সাজিয়েছিলেন।
৩. হিন্দি (অবধী) রামায়ন: গোস্বামী তুলসীদাস
উত্তর ভারতে রামায়ণের যে রূপটি সর্বাধিক জনপ্রিয়, সেটি হলো ‘রামচরিতমানস’। ষোড়শ শতাব্দীতে গোস্বামী তুলসীদাস অবধী ভাষায় (হিন্দির একটি রূপ) এটি রচনা করেন। তুলসীদাসের রামায়ণে রামকে একজন আদর্শ পুরুষ অপেক্ষা ভগবান বিষ্ণুর অবতার রূপে ভক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
৪. তামিল রামায়ন: কবি কম্বর
দক্ষিণ ভারতে রামায়ণের সবচেয়ে প্রাচীন এবং জনপ্রিয় রূপ হলো ‘কম্ব রামায়ণম’। দ্বাদশ শতাব্দীতে তামিল কবি কম্বর এটি রচনা করেন। বাল্মীকি রামায়ণের কাহিনি অনুসরণ করলেও কম্বর তামিল সংস্কৃতি ও সাহিত্যের রীতিনীতি অনুযায়ী এর চরিত্রগুলোর মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন।
৫. অসমীয়া রামায়ন: মাধব কন্দলী
চতুর্দশ শতাব্দীতে অসমীয়া ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন কবি মাধব কন্দলী। তাঁর রচিত এই গ্রন্থের নাম ‘সপ্তকাণ্ড রামায়ণ’ বা ‘কথা রামায়ণ’। এটি উত্তর ভারতের আধুনিক আঞ্চলিক ভাষাগুলোর মধ্যে প্রথম রামায়ণ অনুবাদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
৬. ওড়িয়া রামায়ন: বলরাম দাস
ষোড়শ শতাব্দীতে ওড়িয়া ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন পঞ্চসখা যুগের অন্যতম কবি বলরাম দাস। তাঁর রচিত এই মহাকাব্যটি ‘দণ্ডী রামায়ণ’ বা ‘জগমোহন রামায়ণ’ নামে পরিচিত। ওড়িশার জনজীবনে এবং জগন্নাথ সংস্কৃতির সাথে এই রামায়ণের গভীর যোগসূত্র রয়েছে।
৭. মালয়ালম রামায়ন: থুনচাথু এঝুথাচান
কেরালা রাজ্যে মালয়ালম ভাষায় রামায়ণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রূপটি রচনা করেন থুনচাথু রামানুজন এঝুথাচান। ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত তাঁর গ্রন্থটির নাম ‘অধ্যাত্ম রামায়ণম কিড়িপ্পাট্টু’। তাঁকে মালয়ালম সাহিত্যের জনকও বলা হয়।
৮. মারাঠি রামায়ন: সন্ত একনাথ
মারাঠি ভাষায় রামায়ণের সবচেয়ে বিখ্যাত রূপটি হলো ‘ভাবার্থ রামায়ণ’। ষোড়শ শতাব্দীতে প্রখ্যাত মারাঠি সন্ত এবং কবি একনাথ এটি রচনা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর শিষ্যরা এটি সম্পন্ন করেন।
