বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল প্রশ্নপত্র ২০২৫ PDF | KP Constable Question Papers

২০২৫ কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল বিগত বছরের প্রশ্নপত্র PDF | Kolkata Police Constable Prelims Question Paper in Bengali

সর্বশেষ আপডেট: বিভাগ: বিগত বছরের প্রশ্নপত্র (Previous Year Question)
2025 কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল প্রশ্নপত্র PDF | Kolkata Police Constable Preliminary Question Paper 2025 PDF | Official
অফিসিয়াল প্রশ্নপত্র: কলকাতা পুলিশ (KP) কনস্টেবল প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৫

📌 একনজরে সারসংক্ষেপ:

যেকোনো পুলিশ রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষায় (যেমন- WBP বা KP) চূড়ান্ত সাফল্য পাওয়ার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হলো বিগত বছরের প্রশ্নপত্র (Previous Year Question Paper) খুঁটিয়ে দেখা। "পরীক্ষার প্রশ্নের প্যাটার্ন কেমন হয়?", "জেনারেল নলেজ থেকে কোন কোন বিষয়ে বেশি প্রশ্ন আসে?"— এই ধারণাগুলো স্পষ্ট করার জন্য আজ আমরা ২১শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল প্রিলিমিনারি পরীক্ষার অফিশিয়াল প্রশ্নপত্র এবং ফাইনাল অ্যান্সার কী (Final Answer Key) শেয়ার করলাম। আগামী পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য একদম শেষে থাকছে ফ্রি PDF ডাউনলোড লিংক!

ভূমিকা

Hello Aspirants,

আজকের পোস্টে Kolkata Police Constable Preliminary Question Paper 2025 PDF শেয়ার করলাম। এই প্রশ্নপত্রটির মাধ্যমে আপনারা কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন (Pattern) ও কাঠিন্যের মাত্রা (Difficulty Level) সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারবেন। যারা আগামী দিনে রাজ্য পুলিশের (West Bengal Police) অন্যান্য পরীক্ষাগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের এই প্রশ্নটি সমাধান করলে প্রস্তুতি আরও সঠিকপথে এগোবে।

কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল পরীক্ষা ২০২৫ - ওভারভিউ

কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল পরীক্ষা ২০২৫ বিস্তারিত তথ্য
বিষয় বিস্তারিত তথ্য
পরীক্ষার নাম Constables / Lady Constables in Kolkata Police
পরিচালনকারী সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (West Bengal Police Recruitment Board - WBPRB)
পরীক্ষার ধাপ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (Preliminary Examination)
পরীক্ষার তারিখ ২১শে ডিসেম্বর, ২০২৫
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট wbpolice.gov.in / prb.wb.gov.in

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্যাটার্ন ও সিলেবাস

কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল প্রিলিমিনারি পরীক্ষাটি মোট ১০০ নম্বরের হয় এবং সময় থাকে ১ ঘণ্টা। এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়:

১. জেনারেল অ্যাওয়ারনেস ও জিকে (General Awareness & GK)

মোট ৪০টি প্রশ্ন থাকে। এর মধ্যে ইতিহাস, ভূগোল, পলিটি, সাধারণ বিজ্ঞান এবং কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স (Current Affairs) থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে।

২. প্রাথমিক গণিত (Elementary Mathematics)

মাধ্যমিক স্তরের পাটিগণিত থেকে মোট ৩০টি প্রশ্ন আসে। লাভ-ক্ষতি, সময়-দূরত্ব, সুদকষা এবং অনুপাতের মতো চ্যাপ্টারগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।

৩. রিজনিং বা জিআই (Reasoning / GI)

লজিক্যাল রিজনিং থেকে মোট ৩০টি প্রশ্ন থাকে। ব্লাড রিলেশন, সিরিজ, কোডিং-ডিকোডিং এবং দিক নির্ণয় থেকে প্রশ্ন আসবেই।

মনে রাখবেন: এই পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং রয়েছে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ১/৪ (০.২৫) নম্বর কাটা যায়। তাই আন্দাজে উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র (PDF) ডাউনলোড লিংক

নিচে দেওয়া ডাউনলোড লিংক থেকে কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল প্রিলিমিনারি প্রশ্নপত্র এবং অফিশিয়াল উত্তরপত্র বিনামূল্যে সংগ্রহ করে নিন।

ফাইল বিবরণী (File Details)

  • ফাইলের নাম: KP Constable Prelims Question Paper 2025
  • ভাষার মাধ্যম: বাংলা ও ইংরেজি (Bengali & English)
  • মোট পাতা সংখ্যা: ২২ টি পাতা
  • ফাইলের সাইজ: ০৪ MB

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৫ কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল প্রিলিমিনারি পরীক্ষাটি ২১শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এই প্রশ্নপত্রটি কোন কোন ভাষায় উপলব্ধ?
অফিশিয়াল এই প্রশ্নপত্রটি মূলত বাংলা এবং ইংরেজি— এই দুটি ভাষায় ছাপা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল পরীক্ষার ফাইনাল উত্তরপত্র বা অফিশিয়াল Answer Key কোথায় পাব?
ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (WBPRB) দ্বারা প্রকাশিত অফিশিয়াল ফাইনাল উত্তরপত্রের পিডিএফ লিংক এই পোস্টের 'ডাউনলোড সেকশনে' দেওয়া রয়েছে।

💡 পুলিশ রিক্রুটমেন্ট প্রস্তুতির এই দরকারি প্রশ্নপত্রটি আপনাদের উপকারে আসলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানান!

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

পৃথিবীর বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও তাদের আবিষ্কার তালিকা PDF | Famous Scientists

বিশ্বের বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও তাদের আবিষ্কার তালিকা PDF | Famous Scientists List in Bengali

বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও তাদের আবিষ্কার তালিকা PDF - Famous Scientists and their Discoveries List in Bengali
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জিকে: বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও তাঁদের যুগান্তকারী আবিষ্কার

📌 একনজরে সারসংক্ষেপ:

সরকারি চাকরির পরীক্ষা (যেমন- UPSC, WBCS, রেলওয়ে, ব্যাঙ্ক বা SSC) প্রস্তুতির ক্ষেত্রে 'বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি' বা সাধারণ বিজ্ঞান একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়। পরীক্ষায় হামেশাই বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও তাদের আবিষ্কার (Inventions and Inventors) থেকে প্রশ্ন আসে। যেমন- "অনিশ্চয়তা নীতি কে দিয়েছেন?", "ডিএনএ-র ডাবল হেলিক্স মডেল কার?" বা "ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক কে?"। আপনাদের পড়ার সুবিধার জন্য নিচে দেশ-বিদেশের এবং ভারতের ৫৪ জন প্রখ্যাত বিজ্ঞানীর একটি সম্পূর্ণ তালিকা, তাঁদের বৈজ্ঞানিক অবদান এবং নোবেলজয়ীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছকের সাহায্যে দেওয়া হলো। সাথে থাকছে রিভিশন দেওয়ার জন্য একটি দরকারি PDF নোটস।

ভূমিকা

Hello Aspirants,

চাকরির পরীক্ষার স্ট্যাটিক জিকে বা সাধারণ বিজ্ঞান অংশে 'পৃথিবীর বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের নাম ও তাদের আবিষ্কারের তালিকা' থেকে বারবার প্রশ্ন আসে। বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখবেন, পদার্থবিজ্ঞানী, রসায়নবিদ, জীববিজ্ঞানী থেকে শুরু করে ভারতের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার জনকদের নাম পরীক্ষকদের খুব পছন্দের একটি টপিক।

বইয়ের কঠিন ভাষায় লেখা তথ্য মুখস্থ করতে গেলে অনেক সময় পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে গুলিয়ে যায়। তাই একদমই খুব সহজ কথায় বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের অবদানগুলো নিচে পয়েন্ট করে সাজিয়ে দিলাম। এই তালিকাটি একবার ভালোভাবে চোখ বুলিয়ে নিলেই আপনাদের কনসেপ্ট একদম জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এই তালিকাটি পরীক্ষার জন্য কেন এতো দরকারি?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জিকে (Science & Technology GK) হিসেবে এই অংশটি থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ১-২ নম্বর প্রায় নিশ্চিত থাকে। আইজ্যাক নিউটনের গতিসূত্র থেকে শুরু করে সি. ভি. রমনের 'রমন এফেক্ট' বা এ. পি. জে. আব্দুল কালামের মিসাইল প্রোগ্রাম— এই যুগান্তকারী আবিষ্কারগুলো আমাদের আধুনিক সভ্যতার ভিত গড়ে দিয়েছে। এগুলো জানা থাকলে শুধু যে চাকরি পাওয়াই সহজ হয় তা নয়, আমাদের চারপাশের জগতটা কীভাবে চলছে সেটা বুঝতেও অনেক সুবিধা হয়।

বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও তাদের আবিষ্কারের সম্পূর্ণ তালিকা

নিচে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা, গণিত/জ্যোতির্বিদ্যা এবং বিশেষ করে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী অবদানগুলোর একটি পরিচ্ছন্ন ও সম্পূর্ণ তালিকা দেওয়া হলো:

লাল রঙে হাইলাইট করা নামগুলো বিগত বছরের বিভিন্ন পরীক্ষায় (WBCS, Bank, SSC) সবচেয়ে বেশিবার জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও তাদের আবিষ্কার তালিকা
বিজ্ঞানী ও দেশ (Scientist & Nationality) আবিষ্কার বা অবদান (Breakthrough Discovery)
আইজ্যাক নিউটন
(ব্রিটিশ)
গতির ৩টি সূত্র, মহাকর্ষীয় সূত্র (F=Gm₁m₂/r²) এবং ক্যালকুলাসের সহ-আবিষ্কারক। তাঁর বিখ্যাত বইয়ের নাম 'প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা'।
অ্যালবার্ট আইনস্টাইন
(জার্মান-আমেরিকান)
যুগান্তকারী আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব (E=mc²) দিয়েছেন। তবে তিনি নোবেল পেয়েছিলেন 'আলোকতড়িৎ ক্রিয়া' (Photoelectric Effect) ব্যাখ্যার জন্য।
গ্যালিলিও গ্যালিলি
(ইতালীয়)
"আধুনিক বিজ্ঞানের জনক"। তিনি উন্নত টেলিস্কোপ বানিয়ে বৃহস্পতির ৪টি উপগ্রহ আবিষ্কার করেন এবং পৃথিবী যে সূর্যের চারপাশে ঘোরে তা প্রমাণ করেন।
নিকোলা টেসলা
(সার্বিয়ান-আমেরিকান)
অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC Current), টেসলা কয়েল এবং রেডিওর মূল প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন।
মাইকেল ফ্যারাডে
(ব্রিটিশ)
বিদ্যুৎচুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction), তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র ও বৈদ্যুতিক মোটর আবিষ্কার করেন। তাঁকে "বিদ্যুতের জনক" বলা হয়।
জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
(স্কটিশ)
ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ। তিনি গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেন যে বিদ্যুৎ, চুম্বকত্ব এবং আলো আসলে একই শক্তির আলাদা রূপ।
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
(জার্মান)
কোয়ান্টাম তত্ত্বের জনক। তাঁর কাজের ওপর ভিত্তি করেই আধুনিক কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জন্ম। প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক (h) তাঁর নামেই।
নিলস বোর
(ড্যানিশ)
পরমাণুর গঠন (বোর মডেল) তৈরি করেন এবং দেখান ইলেকট্রনগুলো কীভাবে নিউক্লিয়াসের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষে ঘোরে।
ভার্নার হাইজেনবার্গ
(জার্মান)
কোয়ান্টাম মেকানিক্সের বিখ্যাত 'অনিশ্চয়তা নীতি' (Uncertainty Principle) প্রদান করেন।
এরউইন শ্রোডিঞ্জার
(অস্ট্রিয়ান)
ওয়েভ মেকানিক্স তৈরি করেন। তাঁর 'শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল' (Schrödinger's Cat) থট এক্সপেরিমেন্ট বিজ্ঞানের দুনিয়ায় খুব জনপ্রিয়।
মেরি কুরি
(পোলিশ-ফরাসি)
তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কার করেন। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন—দুটিতেই নোবেল পান।
আর্নেস্ট রাদারফোর্ড
(নিউজিল্যান্ড-ব্রিটিশ)
পরমাণুর নিউক্লিয়াস এবং আলফা/বিটা রশ্মি আবিষ্কার করেন। তাঁকে "নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের জনক" বলা হয়।
জেমস চ্যাডউইক
(ব্রিটিশ)
১৯৩২ সালে পরমাণুর অন্যতম মূল কণা 'নিউট্রন' আবিষ্কার করেন।
রিচার্ড ফেইনম্যান
(আমেরিকান)
কোয়ান্টাম ইলেকট্রোডায়নামিক্সে (QED) তাঁর কাজের জন্য নোবেল পান। তিনি বিজ্ঞানের একজন অসাধারণ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।
স্টিফেন হকিং
(ব্রিটিশ)
ব্ল্যাক হোল এবং হকিং রেডিয়েশন নিয়ে যুগান্তকারী কাজ করেন। তাঁর লেখা 'A Brief History of Time' একটি বিখ্যাত বই।
অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে
(ফরাসি)
আধুনিক রসায়নের জনক। তিনি প্রমাণ করেন দহনের জন্য অক্সিজেন লাগে এবং ভরের নিত্যতা সূত্র প্রদান করেন।
জন ডাল্টন
(ব্রিটিশ)
পদার্থের পরমাণু তত্ত্ব বা 'অ্যাটমিক থিওরি' প্রথম তিনিই সবার সামনে আনেন।
দিমিত্রি মেন্ডেলিভ
(রাশিয়ান)
মৌলগুলোকে সাজিয়ে আধুনিক 'পর্যায় সারণি' বা পিরিয়ডিক টেবিল (Periodic Table) তৈরি করেন।
আলফ্রেড নোবেল
(সুইডিশ)
ভয়ঙ্কর বিস্ফোরক 'ডিনামাইট' আবিষ্কার করেন। তাঁর জমানো টাকা দিয়েই নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।
হামফ্রি ডেভি
(ব্রিটিশ)
সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়ামের মতো মৌল আলাদা করেন এবং 'লাফিং গ্যাস' (N₂O) আবিষ্কার করেন।
ফ্রেডরিখ ভোলার
(জার্মান)
ল্যাবরেটরিতে প্রথম কৃত্রিম জৈব যৌগ হিসেবে 'ইউরিয়া' তৈরি করেন, যা প্রমাণ করে জৈব যৌগ বানাতে কোনো অলৌকিক প্রাণশক্তির দরকার নেই।
লুই পাস্তুর
(ফরাসি)
পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতি এবং জলাতঙ্ক (Rabies) ও কলেরার টিকা বানান। তাঁকে "মাইক্রোবায়োলজির জনক" বলা হয়।
রবার্ট বয়েল
(আইরিশ)
গ্যাসের চাপের সাথে আয়তনের সম্পর্ক নিয়ে বিখ্যাত 'বয়েলের সূত্র' দেন।
লিনাস পলিং
(আমেরিকান)
রাসায়নিক বন্ধন (Chemical Bond) নিয়ে কাজ করেন। তিনিই একমাত্র মানুষ যিনি একা দু'বার (রসায়ন ও শান্তি) নোবেল পান।
চার্লস ডারউইন
(ব্রিটিশ)
প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে 'বিবর্তনবাদ' (Theory of Evolution) থিওরি দেন। বিখ্যাত বইয়ের নাম 'On the Origin of Species'।
গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
(অস্ট্রিয়ান)
মটর গাছ নিয়ে পরীক্ষা করে বংশগতির সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি "জেনেটিক্সের জনক"।
রবার্ট কক
(জার্মান)
যক্ষ্মা (TB) এবং কলেরার জীবাণু আবিষ্কার করেন এবং রোগের কারণ খুঁজতে 'ককস পসটুলেটস' প্রদান করেন।
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
(স্কটিশ)
১৯২৮ সালে ল্যাবরেটরিতে ভুলবশত বিশ্বের প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক 'পেনিসিলিন' আবিষ্কার করে ফেলেন।
ক্রিক এবং ওয়াটসন
(ব্রিটিশ/আমেরিকান)
১৯৫৩ সালে ডিএনএ (DNA)-এর বিখ্যাত ডাবল হেলিক্স গঠন (Double Helix Structure) আবিষ্কার করেন।
রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন
(ব্রিটিশ)
তাঁর তোলা এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি ছবি (Photo 51) দেখেই ক্রিক ও ওয়াটসন DNA-র গঠন বুঝতে পেরেছিলেন।
এডওয়ার্ড জেনার
(ব্রিটিশ)
গুটিবসন্তের (Smallpox) টিকা আবিষ্কার করেন। এটিই ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম কোনো রোগের টিকা।
কার্ল লিনিয়াস
(সুইডিশ)
জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাস বা ট্যাক্সোনমি এবং 'দ্বিপদ নামকরণ' বা বৈজ্ঞানিক নাম লেখার পদ্ধতি চালু করেন।
অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক
(ডাচ)
নিজের হাতে অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানিয়ে প্রথম ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব দেখেন।
উইলিয়াম হার্ভে
(ব্রিটিশ)
মানুষের শরীরে রক্ত কীভাবে হৃদপিণ্ড থেকে সারাদেহে চলাচল করে (Blood Circulation), তা প্রথম সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করেন।
আর্কিমিডিস
(গ্রিক)
জলে ভেসে থাকার প্লবতা সূত্র (Archimedes' Principle) এবং লিভারের নীতি আবিষ্কার করেন।
পিথাগোরাস
(গ্রিক)
সমকোণী ত্রিভুজ নিয়ে তাঁর বিখ্যাত 'পিথাগোরাসের উপপাদ্য' (a² + b² = c²) দেন।
ইউক্লিড
(গ্রিক)
জ্যামিতির জনক। তাঁর লেখা বই 'এলিমেন্টস' আধুনিক জ্যামিতির মূল ভিত্তি।
নিকোলাস কোপার্নিকাস
(পোলিশ)
প্রথম বলেন যে পৃথিবীর বদলে সূর্যই আসলে সৌরজগতের কেন্দ্রে আছে আর গ্রহগুলো তাকে ঘিরেই ঘোরে (Heliocentric model)।
জোহানেস কেপলার
(জার্মান)
গ্রহগুলোর গতিপথ গোল নয় বরং ডিম্বাকার (উপবৃত্তাকার)—এই নিয়ে গ্রহদের গতির তিনটি সূত্র দেন।
অ্যালান টিউরিং
(ব্রিটিশ)
কম্পিউটার সায়েন্সের জনক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শত্রুদের গোপন কোড ভাঙতে তিনি 'টিউরিং মেশিন' বানান।
কার্ল ফ্রেডরিখ গাউস
(জার্মান)
গাণিতিক পরিসংখ্যান ও সংখ্যাতত্ত্বের ওপর তাঁর কাজের জন্য তাঁকে "গণিতের রাজপুত্র" বলা হয়।
আর্যভট্ট
(ভারতীয়)
দশমিক প্রথা চালু করেন, পাই (π)-এর মান বের করেন এবং প্রমাণ করেন পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘোরে। ভারতের প্রথম উপগ্রহ তাঁর নামেই তৈরি হয়।
ব্রহ্মগুপ্ত
(ভারতীয়)
শূন্য (0)-কে প্রথম একটি পূর্ণ সংখ্যা হিসেবে ধরেন এবং শূন্য দিয়ে অঙ্ক কষার নিয়ম শিখিয়ে দেন।
শ্রীনিবাস রামানুজন
(ভারতীয়)
সংখ্যাতত্ত্ব ও অসীম ধারার ওপর অসাধারণ কাজ করেছেন। তাঁর স্মৃতিতে ১৭২৯ সংখ্যাটিকে 'হার্ডি-রামানুজন সংখ্যা' বলা হয়।
সি. ভি. রমন
(ভারতীয়)
আলোর বিচ্ছুরণ বা 'রমন এফেক্ট' আবিষ্কার করেন। বিজ্ঞানে তিনিই ভারতের প্রথম নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী (১৯৩০)।
জগদীশ চন্দ্র বসু
(ভারতীয়)
রেডিও তরঙ্গ নিয়ে কাজ করেন এবং 'ক্রেস্কোগ্রাফ' যন্ত্র দিয়ে প্রথম প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদেরও প্রাণ বা অনুভূতি আছে।
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
(ভারতীয়)
কোয়ান্টাম মেকানিক্সে আইনস্টাইনের সাথে কাজ করেন (বোস-আইনস্টাইন স্ট্যাটিস্টিকস)। তাঁর নামেই 'বোসন' কণার নামকরণ করা হয়েছে।
হোমি জে ভাবা
(ভারতীয়)
ভারতের পরমাণু শক্তি কর্মসূচির প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁকে "ভারতীয় পরমাণু কর্মসূচির জনক" বলা হয়।
বিক্রম সারাভাই
(ভারতীয়)
ইসরো (ISRO) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি হলেন "ভারতীয় মহাকাশ কর্মসূচির জনক"। ভারতের চন্দ্রযানের ল্যান্ডার তাঁর নামেই রাখা হয়েছে।
এ. পি. জে. আব্দুল কালাম
(ভারতীয়)
অগ্নি এবং পৃথ্বী মিসাইল তৈরির মূল কারিগর। ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি কালাম স্যারকে ভালোবেসে "মিসাইল ম্যান" বলা হয়।
হর গোবিন্দ খোরানা
(ভারতীয় বংশোদ্ভূত)
জেনেটিক কোড পড়া এবং প্রোটিন সিন্থেসিস নিয়ে যুগান্তকারী কাজের জন্য নোবেল পুরস্কার (১৯৬৮) পান।
সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর
(ভারতীয় বংশোদ্ভূত)
তারকাদের বিবর্তন নিয়ে কাজ করে 'চন্দ্রশেখর লিমিট' আবিষ্কার করেন, যার জন্য তিনি পদার্থবিদ্যায় নোবেল পান।
মেঘনাদ সাহা
(ভারতীয়)
তাঁর দেওয়া 'তাপীয় আয়নন তত্ত্ব' (Saha Ionization Equation) জ্যোতির্পদার্থবিদ্যায় এক যুগান্তকারী আবিষ্কার হিসেবে ধরা হয়।
প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশ
(ভারতীয়)
ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI)-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁকে ভারতের পরিসংখ্যানবিদ্যার জনক বলা হয়।

পরীক্ষার্থীদের জন্য স্পেশাল টিপস (VIP Facts):

  • আইনস্টাইনের নোবেল: সবাই ভাবে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বুঝি আপেক্ষিকতাবাদ (E=mc²)-এর জন্য নোবেল পেয়েছিলেন। কিন্তু না! তিনি নোবেল পান আলোকতড়িৎ ক্রিয়া (Photoelectric effect) ব্যাখ্যার জন্য। এটি পরীক্ষার অন্যতম বড় ফাঁদ!
  • দু'বার নোবেল জয়: মেরি কুরি হলেন ইতিহাসের একমাত্র মানুষ যিনি বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ আলাদা দুটি শাখায়—পদার্থবিদ্যা (১৯০৩) এবং রসায়নে (১৯১১) নোবেল পুরস্কার জিতেছেন।
  • জাতীয় বিজ্ঞান দিবস: ২৮ ফেব্রুয়ারি সি. ভি. রমন তাঁর বিখ্যাত 'রমন এফেক্ট' আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁর এই বিরাট সাফল্যকে মনে রাখতেই ভারতে প্রতি বছর এই দিনটিতে 'National Science Day' পালিত হয়।
  • বিবর্তন বনাম বংশগতি: চার্লস ডারউইন দিয়েছেন 'বিবর্তনবাদ' (Theory of Evolution)। অন্যদিকে, গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে বলা হয় 'বংশগতিবিদ্যার জনক' (Father of Genetics)। পরীক্ষার হলে এই দুটো অপশন যেন গুলিয়ে না যায়।
  • শূন্যের গোলকধাঁধা: আর্যভট্ট দশমিক ব্যবস্থা আনলেও, ব্রহ্মগুপ্ত প্রথম শূন্য (0)-কে একটা আস্ত সংখ্যা হিসেবে মান্যতা দিয়েছিলেন এবং শূন্য দিয়ে কীভাবে অঙ্ক কষতে হয় তা দেখিয়েছিলেন।
বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও তাদের আবিষ্কারের এই সম্পূর্ণ তালিকাটি নিচে পিডিএফ ফরম্যাটে দেওয়া হলো, যাতে আপনারা অফলাইনে বা প্রিন্ট করেও রিভিশন দিতে পারেন।

ফাইল ডিটেইলস

File Details:

  • File Name: বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও তাদের আবিষ্কার তালিকা
  • File Format: PDF
  • No. of Pages: 6
  • File Size: 322 KB

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

E=mc² সমীকরণটি কার এবং তিনি কিসের জন্য নোবেল পান?
E=mc² (আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব) সমীকরণটি প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের দেওয়া। তবে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন 'আলোকতড়িৎ ক্রিয়া' বা Photoelectric Effect আবিষ্কারের জন্য।
আধুনিক বিজ্ঞানের জনক কাকে বলা হয়?
ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং পদার্থবিদ গ্যালিলিও গ্যালিলিকে তাঁর পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিদ্যা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অসাধারণ অবদানের জন্য আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
বিশ্বের প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন কে আবিষ্কার করেন?
১৯২৮ সালে স্কটিশ জীববিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং বিশ্বের প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কার করেন, যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান।
ভারতের 'মিসাইল ম্যান' (Missile Man) কাকে বলা হয়?
ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামকে তাঁর আইজিএমডিপি (অগ্নি ও পৃথ্বী মিসাইল) প্রোগ্রামে অসামান্য অবদানের জন্য ভারতের 'মিসাইল ম্যান' বলা হয়।
ভারতে কবে এবং কেন 'জাতীয় বিজ্ঞান দিবস' পালিত হয়?
প্রতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে জাতীয় বিজ্ঞান দিবস পালিত হয়। ১৯২৮ সালের এই দিনেই ভারতীয় পদার্থবিদ সি. ভি. রমন তাঁর বিখ্যাত 'রমন এফেক্ট' আবিষ্কার করেছিলেন।

💡 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই দরকারি নোটসটি আপনাদের উপকারে আসলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আপনার প্রিয় বিজ্ঞানীর নাম নিচে কমেন্ট করে আড্ডায় যোগ দিন!

বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

অর্থনীতির পরিভাষা সমূহের তালিকা PDF | Important Economic Terms in Bengali

গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির পরিভাষা সমূহের তালিকা PDF | Important Economic Terms

অর্থনীতির পরিভাষা সমূহ তালিকা PDF- Important Economic Terms in Bengali
ইকোনমিক্স জিকে: পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইকোনমিক টার্মস

📌 একনজরে সারসংক্ষেপ:

সরকারি চাকরির পরীক্ষা (যেমন- UPSC, WBCS, বা SSC) প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অর্থনীতি বা Economics অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অনেকেই অর্থনীতিকে কঠিন বা বোরিং মনে করেন, কিন্তু দেশের ব্যবস্থা কীভাবে চলে তা বোঝার জন্য বেসিক অর্থনীতির জ্ঞান থাকা খুব জরুরি। পরীক্ষায় প্রায়শই "GDP ও GNP এর পার্থক্য কী?", "Fiscal Deficit কাকে বলে?" বা "SEZ কেন তৈরি করা হয়?" এর মতো প্রশ্ন আসে। আপনাদের পড়ার সুবিধার জন্য নিচে অর্থনীতির জগতের সব দরকারি টার্মস এবং সেগুলোর সহজ বাংলা অর্থ ছকের সাহায্যে দেওয়া হলো। সাথে থাকছে রিভিশন দেওয়ার জন্য একটি PDF নোটস।

ভূমিকা

চাকরির পরীক্ষার (বিশেষ করে UPSC Prelims ও Mains) প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অর্থনীতি (GS Paper 3) পার্টটি অনেকের কাছেই বেশ কঠিন লাগে। বিশেষ করে ম্যাক্রো-ইকোনমিক্স বা অর্থনীতির পরিভাষা (Economic Terms)-র খটমটে শব্দগুলো দেখলে অনেকেই ভয় পান। কিন্তু একটু বুঝে পড়লে অর্থনীতি সবচেয়ে স্কোরিং একটি বিষয় হতে পারে।

শুধু পরীক্ষা পাস করার জন্যই নয়, দেশের সম্পদ কীভাবে বণ্টিত হচ্ছে, দেশ উন্নত নাকি উন্নয়নশীল, তা বিচার করতে এই বেসিক টার্মসগুলো জানা আবশ্যিক। তাই বইয়ের কঠিন ভাষা বাদ দিয়ে, খুব সোজা কথায় ইকোনমিক টার্মগুলোর মানে নিচে বুঝিয়ে দেওয়া হলো।

অর্থনীতির পরিভাষা বা টার্মস আসলে কী?

খুব সোজা ভাষায় বলতে গেলে, দেশের আয়-ব্যয়, উৎপাদন, ব্যাঙ্কিং নীতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের সাথে দেশের সম্পর্ক বোঝাতে অর্থনীতিবিদরা যে বিশেষ শব্দগুলো ব্যবহার করেন, সেগুলোকেই অর্থনীতির পরিভাষা (Economic Terminology) বলা হয়। যেমন, দেশের মোট আয়কে সাধারণ ভাষায় 'আয়' না বলে বলা হয় 'GDP' বা 'GNP'। এই শব্দগুলো ছাড়া অর্থনীতির গভীরে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব।

গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির পরিভাষা ও তাদের অর্থ

নিচে UPSC ও অন্যান্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বারবার জিজ্ঞাসা করা সবচেয়ে দরকারি ইকোনমিক টার্মস, তাদের সম্পূর্ণ নাম (Full Form) এবং সহজ বাংলা মানে দেওয়া হলো:

লাল রঙে হাইলাইট করা শব্দগুলো বিগত বছরের বিভিন্ন পরীক্ষায় (UPSC, WBCS, SSC) সবচেয়ে বেশিবার জানতে চাওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির পরিভাষা সমূহের তালিকা
অর্থনীতির পরিভাষা (Term & Full Form) সহজ অর্থ বা ব্যাখ্যা (Meaning in Bengali)
GDP (Gross Domestic Product) মোট দেশজ উৎপাদন: এক বছরে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে উৎপাদিত সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার মোট মূল্য (নাগরিক বা বিদেশী যেই উৎপাদন করুক না কেন)।
GNP (Gross National Product) মোট জাতীয় উৎপাদন: দেশের নাগরিক বা দেশীয় কোম্পানিগুলির দ্বারা এক বছরে উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবার মোট মূল্য, তারা বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন।
NDP (Net Domestic Product) নিট দেশজ উৎপাদন: দেশের মোট GDP থেকে সম্পদের অবচয় (Depreciation) বা ক্ষয়ক্ষতির মূল্য বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে।
NNP (Net National Product) নিট জাতীয় উৎপাদন: একইভাবে, দেশের মোট GNP থেকে অবচয় (Depreciation) বাদ দিলে যা পাওয়া যায়।
Depreciation অবচয়: সময়ের সাথে সাথে ব্যবহারের ফলে বা ঘর্ষণের কারণে কোনো মেশিন বা সম্পদের মূল্য হ্রাস পাওয়া।
Monetary Policy মুদ্রানীতি: দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক (ভারতে RBI) যে নীতির মাধ্যমে বাজারে অর্থের যোগান এবং সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করে।
REPO Rate রেপো রেট: যে সুদের হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) অন্যান্য সাধারণ ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দেয়।
Reverse REPO Rate রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) যখন বাজারে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেওয়ার জন্য অন্যান্য ব্যাঙ্কগুলি থেকে ঋণ নেয়, তখন তাদের যে সুদ দেয়। এটি সাধারণত রেপো রেটের চেয়ে কম হয়।
CRR (Cash Reserve Ratio) নগদ জমার অনুপাত: প্রতিটি ব্যাঙ্ককে তাদের কাছে জমা পড়া মোট টাকার একটি নির্দিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে নগদ আকারে RBI-এর কাছে জমা রাখতে হয়।
SLR (Statutory Liquidity Ratio) বিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত: প্রতিটি ব্যাঙ্ককে তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ নগদ, সোনা বা সরকারি বন্ড হিসেবে নিজেদের কাছেই রিজার্ভ রাখতে হয়।
MSF (Marginal Standing Facility) ব্যাঙ্কগুলি যখন জরুরি প্রয়োজনে অনুমোদিত সরকারি সিকিউরিটির বিপরীতে RBI থেকে রাতারাতি (Overnight) ঋণ নেয়।
Bank Rate রেপো রেটের চেয়ে সামান্য বেশি সুদের হার, যেটিতে RBI অন্যান্য ব্যাঙ্কগুলিকে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয়। ব্যাঙ্কের সুদের হার বাড়াতে RBI এটি বৃদ্ধি করে।
CRAR (Capital to Risk-Weighted Assets Ratio) একটি ব্যাঙ্কের ঝুঁকির (Risk) তুলনায় তার নিজস্ব মূলধনের (Capital) অনুপাত, যা ব্যাঙ্কের স্থায়িত্ব বোঝায়।
Fiscal Policy রাজকোষ নীতি: জাতীয় অর্থনীতিকে প্রভাবিত করার জন্য সরকার যে নীতির মাধ্যমে করের হার (Tax rates) এবং সরকারি ব্যয়ের (Spending levels) পরিমাণ সামঞ্জস্য করে।
Fiscal Deficit রাজকোষ ঘাটতি: সরকারের মোট আয় (ঋণ গ্রহণ বাদ দিয়ে) এবং মোট ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য। যখন সরকারের খরচ তার আয়ের চেয়ে বেশি হয়, তখন এই ঘাটতি দেখা দেয়।
BOP (Balance of Payments) লেনদেন ভারসাম্য: একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের বাইরে যাওয়া এবং দেশের ভিতরে আসা সমস্ত আর্থিক লেনদেনের নিট পার্থক্য।
BOT (Balance of Trade) বাণিজ্য ভারসাম্য: একটি দেশের মোট আমদানি এবং মোট রপ্তানির মূল্যের পার্থক্য। এটি BOP-এরই একটি অংশ।
Capital মূলধন: মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যবসায় যে পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ বিনিয়োগ করা হয়।
Carbon Tax কার্বন ট্যাক্স: কার্বনযুক্ত পদার্থ ব্যবহার করে গ্রিনহাউস গ্যাস বা দূষণ সৃষ্টি করে এমন পণ্যের উপর আরোপিত পরিবেশগত কর।
Inflation মুদ্রাস্ফীতি: কোনো দেশে পণ্য ও পরিষেবার দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার হার, যার ফলে মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা (Purchasing Power) কমে যায়।
Stagflation স্ট্যাগফ্লেশন: এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা যখন দেশে একই সাথে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) এবং উচ্চ বেকারত্ব (Unemployment) দেখা যায়, অথচ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির থাকে। (UPSC-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)।
Deflation মুদ্রাসংকোচন: এটি মুদ্রাস্ফীতির ঠিক বিপরীত। যখন বাজারে পণ্য ও পরিষেবার দাম ক্রমাগত কমতে থাকে এবং টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যায়।
Depression মহামন্দা: কোনো দেশের অর্থনৈতিক কার্যকলাপে দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র পতন। এটি সাধারণ মন্দা বা Recession-এর চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক।
Disinvestment বিনিয়োগ প্রত্যাহার: সরকার যখন তার মালিকানাধীন কোনো সরকারি সংস্থার (PSU) শেয়ার সাধারণ মানুষ বা বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়।
FDI (Foreign Direct Investment) প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ: এক দেশের কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তি যখন অন্য দেশের কোনো ব্যবসায় বা কোম্পানিতে সরাসরি বিনিয়োগ করে।
Free Trade Agreement (FTA) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে এমন একটি চুক্তি, যা দেশগুলির মধ্যে আমদানি-রপ্তানির উপর বাণিজ্য শুল্ক (Tariff) দূর করে বা কমিয়ে দেয়।
Progressive Tax প্রগতিশীল কর: এমন কর ব্যবস্থা যেখানে করযোগ্য আয়ের পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে করের হারও (Tax rate) বৃদ্ধি পায় (যিনি বেশি আয় করেন, তিনি বেশি কর দেন)।
Tariff শুল্ক: অন্য দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য ও পরিষেবার উপর সরকার যে কর বসায়। এর ফলে বিদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যায় এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা হয়।
SEZ (Special Economic Zone) বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল: দেশের এমন একটি নির্দিষ্ট এলাকা যেখানে বাণিজ্য ও ব্যবসার নিয়মকানুন দেশের অন্যান্য অংশ থেকে অনেক শিথিল হয়। কর্মসংস্থান ও বিদেশী বিনিয়োগ (FDI) বাড়ানোর জন্য এটি তৈরি করা হয়।

পরীক্ষার্থীদের জন্য স্পেশাল টিপস (VIP Facts):

  • GDP বনাম GNP: GDP শুধুমাত্র ভৌগোলিক সীমানাকে (Geographical territory) গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে GNP দেশের নাগরিকদের (Citizens) গুরুত্ব দেয়, তারা বিশ্বের যেখানেই কাজ করুক না কেন।
  • NDP ও NNP এর হিসাব: দেশের মোট উৎপাদন (GDP বা GNP) থেকে মেশিনারিজ বা সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি (Depreciation) বাদ দিলে তবেই নিট উৎপাদন (NDP বা NNP) পাওয়া যায়।
  • Monetary Policy বনাম Fiscal Policy: বাজারে মুদ্রাস্ফীতি কন্ট্রোল করতে মুদ্রানীতি (Monetary Policy) ঠিক করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI), আর কর বা আয়ের উপর ভিত্তি করে রাজকোষ নীতি (Fiscal Policy) ঠিক করে দেশের সরকার।
  • BOP এবং BOT: Balance of Trade (BOT) শুধুমাত্র দৃশ্যমান পণ্য আমদানি-রপ্তানির হিসাব রাখে, কিন্তু Balance of Payments (BOP) পণ্য, পরিষেবা ও সমস্ত আর্থিক লেনদেনের হিসাব রাখে।
  • FDI ও SEZ এর সম্পর্ক: বিদেশী বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের জন্য সরকার দেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) তৈরি করে যেখানে ট্যাক্স ও ব্যবসার নিয়ম অনেক সহজ হয়।
ইকোনমিক্স-এর এই অত্যন্ত দরকারি টার্মসগুলির তালিকাটি নিচে পিডিএফ ফরম্যাটে দেওয়া হলো, যাতে আপনারা অফলাইনে বা প্রিন্ট করেও পড়তে পারেন।

ফাইল ডিটেইলস

File Details:

  • File Name: অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা সমূহ (Important Economic Terms)
  • File Format: PDF
  • No. of Pages: 4
  • File Size: 263 KB

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

GDP এবং GNP এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
GDP দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে উৎপাদিত সমস্ত সম্পদের হিসাব রাখে (বিদেশী কোম্পানি উৎপাদিত করলেও তা GDP-তে যুক্ত হবে)। কিন্তু GNP শুধুমাত্র দেশের নাগরিকদের দ্বারা উৎপাদিত সম্পদের হিসাব রাখে, তারা বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন।
REPO Rate এবং Bank Rate এর পার্থক্য কী?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) যখন অন্যান্য ব্যাঙ্কগুলোকে স্বল্প সময়ের (Short-term) জন্য ঋণ দেয়, তখন রেপো রেট চার্জ করা হয়। আর যখন দীর্ঘ মেয়াদের (Long-term) জন্য ঋণ দেয়, তখন ব্যাঙ্ক রেট প্রয়োগ করা হয় (যা রেপো রেটের চেয়ে বেশি)।
Fiscal Deficit বা রাজকোষ ঘাটতি কী?
সরকার যখন তার মোট আয়ের চেয়ে (ঋণ নেওয়া টাকা বাদ দিয়ে) বেশি অর্থ ব্যয় করে ফেলে, তখন আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যে শূন্যস্থান বা ঘাটতি তৈরি হয়, তাকেই Fiscal Deficit বা রাজকোষ ঘাটতি বলে।
Inflation বা মুদ্রাস্ফীতি হলে কী হয়?
মুদ্রাস্ফীতি হলে বাজারে পণ্য ও পরিষেবার দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এর ফলে সাধারণ মানুষের টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় (অর্থাৎ একই পরিমাণ টাকায় আগের চেয়ে কম জিনিস পাওয়া যায়)।
SEZ বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কেন তৈরি করা হয়?
SEZ বা Special Economic Zone তৈরি করা হয় যাতে সেখানে ব্যবসা ও বাণিজ্যের নিয়মকানুন শিথিল করে বিদেশী বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণ করা যায়, রপ্তানি বাড়ানো যায় এবং দেশে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়।

💡 ইকোনমিক্স-এর এই দরকারি নোটসটি আপনাদের UPSC বা WBCS প্রস্তুতির উপকারে আসলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। কোনো টার্ম বুঝতে অসুবিধা হলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন!