প্রাচীন ভারতের মুদ্রার নাম তালিকা PDF | Coins of Ancient India
প্রাচীন ভারতের মুদ্রার নামের তালিকা PDF | Coins of Ancient India
ভূমিকা
Hello Friends,
আজ আপনাদের জন্য প্রাচীন ভারতের মুদ্রার নামের তালিকা PDF শেয়ার করছি। প্রাচীন যুগে ব্যবহৃত উল্লেখযোগ্য মুদ্রা, তাদের নাম, প্রচলনের যুগ বা রাজবংশ এবং সেগুলো কোন উপাদান বা ধাতু দিয়ে তৈরি— তার একটি সম্পূর্ণ ও নিখুঁত তালিকা এখানে দেওয়া হলো।
ভারতের ইতিহাস রচনায় এই মুদ্রাগুলো ইতিহাসবিদদের ভীষণভাবে সাহায্য করে। যারা WBCS, SSC, RRB, বা ডব্লিউবিপি (WBP) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই টপিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে— নিস্ক কোন যুগের মুদ্রা? গুপ্ত যুগের স্বর্ণমুদ্রাকে কী বলা হতো? মনা কী? ইত্যাদি।
ইতিহাস রচনায় মুদ্রাতত্ত্বের (Numismatics) গুরুত্ব
প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার অন্যতম প্রধান উপাদান হলো মুদ্রা। মুদ্রা নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত পড়াশোনা বা গবেষণাকে মুদ্রাতত্ত্ব বা Numismatics বলা হয়। শিলালিপি বা সাহিত্যের পাশাপাশি মুদ্রার মাধ্যমে আমরা কোনো রাজা বা রাজবংশের সময়কাল, তাঁদের রাজ্যের বিস্তৃতি, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং শিল্পকলার বিকাশ সম্পর্কে জানতে পারি।
প্রাচীন ভারতের গুপ্ত যুগ, মৌর্য সাম্রাজ্য, পাল ও সেন যুগে স্বর্ণমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা এবং তাম্রমুদ্রার ব্যাপক প্রচলন ছিল। মুদ্রার গায়ে খোদাই করা রাজার মূর্তি বা দেবদেবীর ছবি থেকে তৎকালীন ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যবসা-বাণিজ্যের (বৈদেশিক বাণিজ্য) প্রমাণও পাওয়া যায়।
প্রাচীন ভারতের মুদ্রার নামের তালিকা
নিচে প্রাচীন ভারতের বিভিন্ন যুগের মুদ্রার নাম এবং সেগুলি কোন উপাদান বা ধাতু দিয়ে তৈরি তার একটি সম্পূর্ণ তালিকা টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| মুদ্রার নাম (Coin Name) | যুগ/রাজবংশ (Era/Dynasty) | উপাদান / ধাতু (Material / Metal) |
|---|---|---|
| নিস্ক (Nishka) | ঋগ্বৈদিক যুগ | সোনা |
| মনা (Mana) | ঋগ্বৈদিক যুগ | সোনা |
| কৃষ্ণল (Krishnala) | বৈদিক পরবর্তী যুগ | সোনা |
| সুবর্ণ (Suvarna) | মৌর্য / গুপ্ত যুগ | সোনা |
| কার্ষাপন (Karshapana) | মৌর্য যুগ | তামা / রুপা / সোনা |
| দারিক (Daric) | পারস্য সাম্রাজ্য (ভারতে প্রচলিত) | সোনা |
| সিগলোই (Sigloi) | পারস্য সাম্রাজ্য (ভারতে প্রচলিত) | রুপা |
| পেটিন / পোটিন (Potin) | সাতবাহন রাজবংশ | সিসা (Lead) |
| ক্যাশু (Kashu) | চোল রাজবংশ | সোনা |
| নারায়ণী (Narayani) | কোচ রাজবংশ | রুপা |
| পুরান (Purana) | সেন যুগ / প্রাচীন ভারত | রুপা |
| কপর্দক (Kapardaka) | সেন যুগ | কড়ি (Cowrie Shell) |
| দ্রম্ম (Dramma) | পাল / সেন রাজবংশ | রুপা / সোনা |
| ধরন (Dharana) | পাল রাজবংশ | রুপা |
| কাকণিক (Kakanika) | মৌর্য যুগ | তামা |
| রূপক (Rupaka) | গুপ্ত রাজবংশ | রুপা |
| মাশক (Mashaka) | মৌর্য যুগ | তামা |
| শতমান (Shatamana) | বৈদিক পরবর্তী যুগ | সোনা / রুপা |
| দিনার (Dinar) | গুপ্ত রাজবংশ | সোনা |
📌 পরীক্ষার্থীদের জন্য মুদ্রাতত্ত্বের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- দ্রম্ম (Dramma): এই রৌপ্যমুদ্রাটি মূলত গ্রিক মুদ্রা 'Drachma' (দ্রাখমা) থেকে অনুপ্রাণিত। প্রাচীন ভারতের গুর্জর-প্রতীহার, পাল ও সেন বংশে এর ব্যাপক প্রচলন ছিল।
- নারায়ণী মুদ্রা: অনেক সাধারণ বইতে এটি পাল যুগের বলে উল্লেখ থাকলেও, এটি মূলত কোচ রাজবংশের মহারাজা নরনারায়ণের প্রবর্তিত রৌপ্যমুদ্রা।
- কপর্দক কী? কপর্দক হলো সমুদ্রের কড়ি (Cowrie Shell)। সেন যুগে বাংলায় মুদ্রার প্রচলন খুব কম ছিল, দৈনন্দিন কেনাকাটা এবং বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম হিসেবে এই 'কপর্দক' বা কড়ি ব্যবহার করা হতো।
- দিনার (Dinar): গুপ্ত যুগের স্বর্ণমুদ্রাকে দিনার বলা হতো। এই নামটি প্রাচীন রোমান মুদ্রা 'Denarius' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাখা হয়েছিল।
- দারিক ও সিগলোই: দারিক (স্বর্ণমুদ্রা) এবং সিগলোই (রৌপ্যমুদ্রা) মূলত পারস্য সাম্রাজ্যের (Persian Empire) মুদ্রা ছিল, যা প্রাচীনকালে ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে উত্তর-পশ্চিম ভারতে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।
- সাতবাহনদের মুদ্রা: সাতবাহন রাজারা মূলত সিসা (Lead) দিয়ে তাদের মুদ্রা তৈরি করতেন, যাকে পোটিন (Potin) বলা হতো।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
- নিস্ক ও মনা কোন যুগের মুদ্রা?
- নিস্ক ও মনা হলো ঋগ্বৈদিক যুগের প্রধান বিনিময় মাধ্যম বা স্বর্ণমুদ্রা। প্রাচীনকালে গলার অলংকার হিসেবেও নিস্ক ব্যবহার করা হতো।
- গুপ্ত যুগের স্বর্ণমুদ্রাকে কী বলা হতো?
- গুপ্ত যুগের স্বর্ণমুদ্রাকে দিনার (Dinar) বলা হতো। এই যুগে রুপার মুদ্রাকেও 'রূপক' নামে ডাকা হতো।
- মুদ্রাতত্ত্ব বা Numismatics কাকে বলে?
- প্রাচীন মুদ্রা, পদক, বা কাগজের টাকার উৎপত্তি, ধাতু এবং ইতিহাস নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত পড়াশোনা বা গবেষণাকে মুদ্রাতত্ত্ব বা Numismatics বলা হয়।