Breaking

Friday, September 11, 2026

Friday, September 11, 2026

বেদের অংশ সমূহ | ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ব বেদ সম্পর্কে জানুন

বেদের কয়টি অংশ ও কী কী | বেদের প্রকারভেদ

বেদের অংশসমূহ: ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ
বেদের বিভিন্ন অংশ: চতুর্বেদ ও বৈদিক উপবিভাগ

📌 একনজরে সারসংক্ষেপ:

প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সনাতন ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ হলো 'বেদ'। এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার মূলত চারটি অংশে বিভক্ত, যা বেদের অংশসমূহ নামে পরিচিত। মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস সংকলিত এই চার বেদ হলো: ঋগ্বেদ (দেবস্তুতি ও প্রাচীনতম পাঠ), সামবেদ (সঙ্গীত ও সুরের আদি উৎস), যজুর্বেদ (যজ্ঞের ক্রিয়াকাণ্ড ও নিয়ম) এবং অথর্ববেদ (চিকিৎসাবিদ্যা ও তন্ত্রমন্ত্র)। ঋগ, সাম ও যজুর্বেদকে একত্রে বেদত্রয়ী বলা হয়।

ভূমিকা

হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম, পবিত্রতম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ হলো 'বেদ'। সংস্কৃত 'বিদ' ধাতু থেকে বেদ শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ হলো 'জ্ঞান'। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী বেদ কোনো সাধারণ মানুষের রচনা নয়, এটি 'অপৌরষেয়' অর্থাৎ ঈশ্বরের মুখনিঃসৃত বাণী। প্রাচীনকালের ঋষিরা গভীর ধ্যানের মাধ্যমে এই মহাজাগতিক জ্ঞান লাভ করেছিলেন এবং তা শ্রুতির মাধ্যমে (শুনে শুনে) শিষ্যপরম্পরায় সংরক্ষণ করেছিলেন। তাই বেদের অপর নাম 'শ্রুতি'

কালক্রমে মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারকে বিষয়বস্তু অনুযায়ী চারটি মূল ভাগে বিভক্ত করেন। প্রাচীন ভারতের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক ইতিহাস পুনর্গঠনে বেদের অংশসমূহ বা বৈদিক সাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম।

১. ঋগ্বেদ (Rigveda)

সমগ্র বিশ্বের সাপেক্ষে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীনতম সাহিত্য হলো ঋগ্বেদ। সনাতন ধর্মের প্রধান চারটি গ্রন্থের মধ্যে এটি প্রাচীনতম ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

  • গঠন: এতে মোট ১০টি মণ্ডল, ১০২৮টি সূক্ত (১০১৭টি মূল + ১১টি বালখিল্য সূক্ত) এবং ১০,৫৮০টি ঋক (শ্লোক) রয়েছে। সম্পূর্ণ গ্রন্থটি ৮টি 'অষ্টক'-এ বিভক্ত এবং প্রতিটি অষ্টকে ৮টি করে অধ্যায় রয়েছে।
  • প্রাচীনতম মণ্ডল: ২য় থেকে ৭ম মণ্ডল সবচেয়ে প্রাচীন, যেগুলোকে 'কুলগ্রন্থ' (Family Books) বলা হয়। এগুলো বিভিন্ন ঋষি বংশের দ্বারা রচিত। ১ম এবং ১০ম মণ্ডল সবচেয়ে শেষে সংযোজিত হয়।
  • দেবতাদের স্তুতি: ইন্দ্র (২৫০টি সূক্ত), অগ্নি (২০০টি সূক্ত), বরুণ ও মিত্রের উদ্দেশ্যে স্তুতিগান রচিত। ঋগ্বেদে সবচেয়ে বেশি উল্লেখিত নদী সিন্ধু এবং সবচেয়ে পবিত্র নদী সরস্বতী (নদীতমা)
  • গায়ত্রী মন্ত্র: বিখ্যাত গায়ত্রী মন্ত্র ঋগ্বেদের ৩য় মণ্ডলে স্থান পেয়েছে, যা ঋষি বিশ্বামিত্র সূর্যদেবী সাবিত্রীর উদ্দেশ্যে রচনা করেছিলেন।
  • দশরাজন যুদ্ধ (Battle of Ten Kings): ঋগ্বেদের ৭ম মণ্ডলে রাভী (পরুষ্ণী) নদীর তীরে ভরত গোষ্ঠীর রাজা সুদাস ও দশ রাজার কনফেডারেশনের ঐতিহাসিক যুদ্ধের বিবরণ রয়েছে।
  • পুরুষসূক্ত ও বর্ণপ্রথা: ঋগ্বেদের ১০ম মণ্ডলের 'পুরুষসূক্তে' সর্বপ্রথম সমাজকে চার বর্ণে (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র) বিভাজনের স্পষ্ট উল্লেখ মেলে।
  • প্রাচীন যুগে যেসব মুনি-ঋষি ঋগ্বেদের মন্ত্রগুলো আবৃত্তি করতেন, তাঁদেরকে হোত্রী (Hotri) বলা হতো। এই প্রাচীনত্বের কারণেই একে "মানব জাতির আদি আইন" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

২. সামবেদ (Samaveda)

সামবেদকে মূলত 'মন্ত্রবেদ' বা মন্ত্রজ্ঞানের ভাণ্ডার হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রাচীনকালে এর নাম ছিল 'সমন', যার আভিধানিক অর্থ হলো সুর বা মেলোডি

  • শ্লোক সংখ্যা: এতে মোট ১৮৭৫টি শ্লোক রয়েছে। এর প্রায় সমস্ত শ্লোকই (মাত্র ৭৫ থেকে ৯৯টি বাদে) ঋগ্বেদের ৮ম ও ৯ম মণ্ডল থেকে সংগৃহীত।
  • সঙ্গীতের আদি উৎস: ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীত (Classical Music) এবং শাস্ত্রীয় নৃত্যের উৎপত্তি এই সামবেদ থেকেই হয়েছে। ভারতীয় সঙ্গীতের সপ্তস্বর (সা, রে, গা, মা, পা, ধা, নি) প্রথম সামবেদেই উল্লেখিত হয়।
  • সামগান: যজ্ঞের সময় সুর করে যে স্তোত্রগুলো গাওয়া হতো, সেগুলোকে 'সামগান' বলা হতো। সামবেদের মন্ত্র আবৃত্তিকারক পুরোহিতকে উদ্গাতা (Udgatri) বলা হয়।
  • আনুমানিক ১২০০ থেকে ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মাঝামাঝি সময়ে এটি সংকলিত হয়েছিল।

৩. যজুর্বেদ (Yajurveda)

যজুর্বেদ রচনার সময়কালও আনুমানিক ১২০০ থেকে ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। 'যজুঃ' শব্দটির অন্তর্নিহিত অর্থ হলো— শ্রদ্ধা নিবেদন, পূজা, ধর্মানুশীলন এবং যজ্ঞের সময় পঠিত বিশেষ মন্ত্র বা প্রার্থনা পদ্ধতি। প্রাচীনকালে এই বেদটি 'যজুমষি' নামে পরিচিত ছিল।

  • দুটি শাখা: যজুর্বেদ একমাত্র বেদ যা পদ্য ও গদ্য উভয় রীতিতেই রচিত। এর প্রধান দুটি শাখা রয়েছে:
    • শুক্ল যজুর্বেদ (বাজসনেয়ী সংহিতা): এটি কেবল মূল বৈদিক মন্ত্রের সুবিন্যস্ত রূপ।
    • কৃষ্ণ যজুর্বেদ (তৈত্তিরীয় সংহিতা): এতে মন্ত্রের সাথে সাথে গদ্যে যজ্ঞের ব্যাখ্যামূলক অংশ যুক্ত থাকায় এটি কিছুটা অগোছালো।
  • পুরোহিত: যজ্ঞ সম্পন্ন করার সময় যজুর্বেদের নির্দেশ ও মন্ত্র পাঠকারী পুরোহিতকে অধ্বর্যু (Adhvaryu) বলা হতো।
  • গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ: প্রাচীন ভারতের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ও সামাজিক দলিলের উৎস বিখ্যাত 'শতপথ ব্রাহ্মণ' শুক্ল যজুর্বেদেরই একটি অংশ।

৪. অথর্ববেদ (Atharvaveda)

খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ থেকে ১০০০ অব্দের সমসাময়িক সময়ে রচিত অথর্ববেদ দীর্ঘকাল 'বেদত্রয়ী'-র বাইরে ছিল। ঋষি অথর্বা ও অঙ্গিরসের নামানুসারে শুরুতে এর নামকরণ করা হয়েছিল 'অথর্বাঙ্গিরস'

  • বিষয়বস্তু: বিশাল এই গ্রন্থটি ২০টি কাণ্ড (খণ্ড), ৭৩০টি সূক্ত এবং প্রায় ৬,০০০ মন্ত্রে বিভক্ত। অন্যান্য বেদের মতো কেবল দেবস্তুতি নয়, এতে তৎকালীন সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, বিভিন্ন রোগমুক্তি, ভেষজ ঔষধ, তান্ত্রিক আচার ও কালাজাদু স্থান পেয়েছে।
  • চিকিৎসাবিজ্ঞান: প্রাচীন ভারতের চিকিৎসাবিদ্যা বা আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের প্রাথমিক মূল ভিত্তি এই বেদ থেকেই প্রোথিত হয়।
  • রাজনৈতিক তথ্য: অথর্ববেদেই বিখ্যাত গণপরিষদ 'সভা' এবং 'সমিতি'-কে প্রজাপতির দুই যমজ কন্যা (Twin daughters of Prajapati) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা প্রাচীন ভারতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে ডব্লিউবিসিএস ও ইউপিএসসি পরীক্ষার একটি প্রিয় প্রশ্ন।
  • পুরোহিত: সম্পূর্ণ যজ্ঞ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার তত্ত্বাবধানকারী সর্বোচ্চ পুরোহিতকে ব্রহ্মা (Brahma) বলা হতো, যিনি অথর্ববেদের সাথে যুক্ত।
  • উপনিষদ: ভারতীয় জাতীয় প্রতীক বা নীতিবাক্য "সত্যমেব জয়তে" (Satyameva Jayate) গৃহীত হয়েছে অথর্ববেদের অন্তর্গত বিখ্যাত মুণ্ডক উপনিষদ থেকে।

বেদের অভ্যন্তরীণ ৪টি ভাগ

প্রতিটি বেদের বিকাশ চার স্তর বিশিষ্ট। এগুলো পরীক্ষার জন্য গভীরভাবে বোঝা আবশ্যক:

  • ১. সংহিতা (Samhita): দেব-দেবীর স্তুতির মূল মন্ত্র ও শ্লোকের সংকলন। এটি কর্মকাণ্ডের প্রথম স্তর।
  • ২. ব্রাহ্মণ (Brahmana): জটিল যজ্ঞ, ধর্মীয় আচার এবং সংহিতার মন্ত্রসমূহের গদ্য ব্যাখ্যা ও নির্দেশিকা।
  • ৩. আরণ্যক (Aranyaka): মুনি-ঋষিদের অরণ্যে নির্জনে পাঠযোগ্য প্রতীকী ও রহস্যময় দর্শনের সংকলন (কর্মকাণ্ড থেকে জ্ঞানকাণ্ডে রূপান্তরের সেতুবন্ধন)।
  • ৪. উপনিষদ (Upanishad): বেদের শেষ বা চূড়ান্ত দার্শনিক অংশ। তাই একে বেদান্ত (Vedanta) বলা হয়। এতে আত্মা, পরমাত্মা ও মোক্ষলাভের গভীর দর্শন বর্ণিত হয়েছে।

একনজরে চতুর্বেদের তুলনামূলক তালিকা

চার বেদের পুরোহিত, উপবেদ ও প্রধান উপনিষদের তালিকা
বেদের নাম সম্পর্কিত পুরোহিত উপবেদ (Upaveda) বিখ্যাত গ্রন্থ / বিশেষত্ব
ঋগ্বেদ হোত্রী (Hotri) আয়ুর্বেদ (Ayurveda) ঐতরেয় ব্রাহ্মণ, গায়ত্রী মন্ত্র, দশরাজন যুদ্ধ, পুরুষসূক্ত।
সামবেদ উদ্গাতা (Udgatri) গান্ধর্ববেদ (সঙ্গীতকলা) ছান্দোগ্য উপনিষদ (কৃষ্ণের প্রাচীনতম উল্লেখ ও ৩টি আশ্রমের ধারণা)।
যজুর্বেদ অধ্বর্যু (Adhvaryu) ধনুর্বেদ (যুদ্ধবিদ্যা) শতপথ ব্রাহ্মণ, বৃহদারণ্যক উপনিষদ ("তমসো মা জ্যোতির্গময়")।
অথর্ববেদ ব্রহ্মা (Brahma) শিল্পবেদ বা স্থাপত্যবেদ মুণ্ডক উপনিষদ ("সত্যমেব জয়তে"), চিকিৎসাবিদ্যা ও তন্ত্রবিদ্যা।

বিগত পরীক্ষার প্রশ্নোত্তরে বৈদিক সাহিত্য (FAQ)

ভারতীয় জাতীয় নীতিবাক্য "সত্যমেব জয়তে" কোথা থেকে গৃহীত হয়েছে?
ভারতের জাতীয় নীতিবাক্য "সত্যমেব জয়তে" অথর্ববেদের অন্তর্ভুক্ত মুণ্ডক উপনিষদ (Mundaka Upanishad) থেকে সংগৃহীত হয়েছে।
চার বর্ণের (চতুর্বর্ণ) স্পষ্ট উল্লেখ বেদের কোথায় পাওয়া যায়?
ঋগ্বেদের ১০ম মণ্ডলের পুরুষসূক্তে (Purusha Sukta) সর্বপ্রথম ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র— এই চার বর্ণের সামাজিক বিভাজনের স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়।
গায়ত্রী মন্ত্র কে রচনা করেন এবং এটি কোন মণ্ডলে রয়েছে?
গায়ত্রী মন্ত্র ঋগ্বেদের তৃতীয় মণ্ডলে রয়েছে। এটি ঋষি বিশ্বামিত্র সূর্যদেবী সাবিত্রীর উদ্দেশ্যে রচনা করেছিলেন।
'সভা' ও 'সমিতি'-কে প্রজাপতির দুই কন্যা বলা হয়েছে কোন বেদে?
বৈদিক গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান 'সভা' ও 'সমিতি'-কে অথর্ববেদে প্রজাপতির দুই যমজ কন্যা রূপে বর্ণনা করা হয়েছে।
'দশরাজন যুদ্ধ' বা দশ রাজার যুদ্ধ কোন নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
ঋগ্বেদের সপ্তম মণ্ডল অনুসারে দশ রাজার যুদ্ধ বৈদিক পরুষ্ণী (বর্তমান ইরাবতী বা রাভী নদী)-র তীরে রাজা সুদাস ও দশ রাজার মিত্রবাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।
Also Read ::

⦿ বিভিন্ন ভাষায় রামায়নের রচয়িতা তালিকা

Thursday, September 10, 2026

Thursday, September 10, 2026

ঐতিহাসিক লিপি ও প্রশস্তি তালিকা PDF | Historical Inscriptions of India

ঐতিহাসিক লিপি ও প্রশস্তি তালিকা PDF | কোন লিপি থেকে কোন রাজার কথা জানা যায়

ঐতিহাসিক লিপি ও প্রশস্তি তালিকা PDF - Historical Inscriptions of India for WBCS
প্রাচীন ভারতের গুরুত্বপূর্ণ লিপি, প্রশস্তি ও স্তম্ভলিপির তালিকা

📌 একনজরে সারসংক্ষেপ:

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উৎস হিসেবে 'শিলালিপি' ও 'প্রশস্তি' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ প্রশস্তি, দ্বিতীয় পুলকেশীর আইহোল প্রশস্তি এবং কলিঙ্গরাজ খারবেলের হাতিগুম্ফা লিপি। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (WBCS, PSC, SSC, WBP) এখান থেকে নিশ্চিত প্রশ্ন আসে। নিচে ভারতের সমস্ত ঐতিহাসিক লিপি ও প্রশস্তির রচয়িতাসহ সম্পূর্ণ তালিকা PDF দেওয়া হলো।

ভূমিকা

Hello Friends,

আজ আপনাদের জন্য 'ঐতিহাসিক লিপি ও প্রশস্তি তালিকা PDF' শেয়ার করছি, যেটিতে প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত শিলালিপি, স্তম্ভলিপি এবং প্রশস্তি সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।

WBCS, PSC, WBP, RRB Group D, NTPC-সহ সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতে ইতিহাসের উৎস হিসেবে এই টপিক থেকে প্রায়ই একটি করে প্রশ্ন আসে। যেমন- আইহোল প্রশস্তি থেকে কোন রাজার কথা জানা যায়? বিশুদ্ধ সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রথম লিপি কোনটি? অথবা এলাহাবাদ প্রশস্তি কে রচনা করেন? ইত্যাদি। তাই তালিকাটি যত্ন সহকারে পড়ে মনে রাখুন।

শিলালিপি ও প্রশস্তি কী? (Epigraphy)

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান হলো শিলালিপি (Inscriptions), তাম্রশাসন (Copper plates) এবং প্রশস্তি (Eulogies)।

  • প্রাচীনকালে পাথর, তামা বা লোহার গায়ে খোদাই করে লিপি উৎকীর্ণ করার বিদ্যা বা লিপিবিদ্যাকে ইংরেজিতে এপিগ্রাফি (Epigraphy) বলা হয়।
  • রাজাদের যুদ্ধজয়, বীরত্ব, রাজত্বকাল এবং গুণগান বর্ণনার জন্য সভাকবিরা যে লিপি রচনা করতেন, তাকে প্রশস্তি (Prashasti) বলা হয় (যেমন- এলাহাবাদ প্রশস্তি)।

ঐতিহাসিক লিপি ও প্রশস্তির তালিকা

নিচে ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক লিপি ও প্রশস্তির নাম, কার সম্পর্কে জানা যায় এবং ব্র্যাকেটে রচয়িতার নাম (যেগুলো পরীক্ষায় আসে) দেওয়া হলো:

লাল রঙে হাইলাইট করা লিপিগুলো বিগত বছরের পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশিবার এসেছে
বিভিন্ন ঐতিহাসিক লিপি ও প্রশস্তির তালিকা
লিপি ও প্রশস্তির নাম যাঁর কথা জানা যায় (ও রচয়িতা)
এলাহাবাদ প্রশস্তি সমুদ্রগুপ্ত (রচয়িতা: হরিষেণ)
আইহোল প্রশস্তি দ্বিতীয় পুলকেশী (রচয়িতা: রবিকীর্তি)
নাসিক প্রশস্তি / লিপি গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী (রচয়িতা: গৌতমী বলশ্রী)
হাতিগুম্ফা লিপি কলিঙ্গরাজ খারবেল
জুনাগড় শিলালিপি শকরাজ রুদ্রদমন (বিশুদ্ধ সংস্কৃত ভাষায় রচিত ভারতের প্রথম শিলালিপি)
উত্তরমেরুর লিপি প্রথম পরান্তক (চোলদের গ্রামীণ শাসনব্যবস্থা)
এরান লিপি ভানুগুপ্ত (সতীদাহ প্রথার প্রাচীনতম উল্লেখ)
ভিতরী স্তম্ভলিপি স্কন্দগুপ্ত (হুন আক্রমণের উল্লেখ)
সারনাথ স্তম্ভলিপি অশোক (ভারতের জাতীয় প্রতীকের উৎস)
দামোদরপুর তাম্রলিপি প্রথম কুমারগুপ্ত (গুপ্তযুগে বাংলার ভূমিদান ব্যবস্থা)
নিধানপুর তাম্রশাসন কামরূপরাজ ভাস্করবর্মন (হর্ষবর্ধনের সমসাময়িক)
নানাঘাট শিলালিপি প্রথম সাতকর্ণী (রচয়িতা: রাণী নাগানিকা)
তখৎ-ই-বাহি লিপি গন্ডোফার্নিস (পার্থিয়ান বা পহ্লব রাজা)
সোহগৌড়া তাম্রলিপি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য (প্রাচীনতম তাম্রলিপি, দুর্ভিক্ষ মোকাবিলার কথা বলা আছে)
সঞ্জান তাম্রলিপি অমোঘবর্ষ (রাষ্ট্রকূট বংশ)
খালিমপুর তাম্রলিপি ধর্মপাল (পাল বংশ)
মুঙ্গের তাম্রলিপি দেবপাল (পাল বংশ)
বাদল স্তম্ভলিপি নারায়ণ পাল (পাল বংশ)
তর্পণদীঘি তাম্রশাসন লক্ষ্মণ সেন (সেন বংশ)
মান্দাসোর লিপি যশোবর্মন ও কুমারগুপ্ত (রচয়িতা: বাসুল ও বৎসভট্টি)
হরহ লিপি ঈশান বর্মা
অশোকের ১৩শ শিলালিপি অশোক (কলিঙ্গ যুদ্ধের বিবরণ)
কান্দাহার লিপি অশোক (দ্বিভাষিক লিপি - গ্রিক ও আরামায়িক)
ভব্রু লিপি অশোক (বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা গ্রহণের কথা জানা যায়)
কলিঙ্গ লিপি বা ধৌলি লিপি অশোক
মাস্কি ও গুর্জরা লিপি অশোক (এই লিপিতে 'অশোক' নামটি সরাসরি লেখা আছে)
রুম্মিনদেই লিপি অশোক (গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থানের উল্লেখ)
গঞ্জাম লিপি গৌড়রাজ শশাঙ্ক
বোঘাজকোই লিপি আর্যদের দেবদেবী (এশিয়া মাইনরে প্রাপ্ত, প্রাচীনতম শিলালিপি)
গরুড়ধ্বজ লিপি (বেসনগর) হেলিওডোরাস
রাবাতক লিপি কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক
তাঞ্জোর লিপি প্রথম রাজরাজ চোল
তিরুমালাই লিপি প্রথম রাজেন্দ্র চোল
গোয়ালিয়র প্রশস্তি প্রতিহার রাজা প্রথম ভোজ
দেওপাড়া প্রশস্তি বিজয় সেন (রচয়িতা: উমাপতিধর)
কাসাকুদ্দি প্রশস্তি পল্লবরাজ দ্বিতীয় নন্দীবর্মন
মহরৌলি লৌহস্তম্ভ লিপি দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (মরিচা-বিহীন লৌহস্তম্ভ)
বাঁশখেরা ও মধুবন লিপি হর্ষবর্ধন

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

লিপি উৎকীর্ণ করার বিদ্যাকে কী বলা হয়?
প্রাচীনকালে পাথর বা তামার গায়ে খোদাই করে লিপি উৎকীর্ণ করার বিদ্যা বা লিপিবিদ্যাকে এপিগ্রাফি (Epigraphy) বলা হয়।
বিশুদ্ধ সংস্কৃত ভাষায় লেখা ভারতের প্রথম শিলালিপি কোনটি?
শকরাজ রুদ্রদমন কর্তৃক উৎকীর্ণ জুনাগড় শিলালিপি হলো বিশুদ্ধ সংস্কৃত ভাষায় লেখা ভারতের প্রথম শিলালিপি।
আইহোল প্রশস্তি কার রচনা এবং কার কথা জানা যায়?
আইহোল প্রশস্তি রচনা করেন রবিকীর্তি এবং এটি থেকে চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশী সম্পর্কে জানা যায়।
এলাহাবাদ প্রশস্তি কে রচনা করেন?
এলাহাবাদ প্রশস্তি রচনা করেন সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিষেণ। এটি থেকে সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয়ের কথা জানা যায়।
হাতিগুম্ফা লিপি থেকে কোন রাজার কথা জানা যায়?
হাতিগুম্ফা লিপি থেকে কলিঙ্গরাজ খারবেল-এর রাজত্বকালের কথা জানা যায়।

Wednesday, September 9, 2026

Wednesday, September 09, 2026

কে কোন নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত তালিকা PDF | ভারতের বিখ্যাত নৃত্য শিল্পী

কে কোন নৃত্যের সাথে জড়িত তালিকা PDF | নৃত্য ও নৃত্যশিল্পীর নাম

কে কোন নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী তালিকা
কে কোন নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত এবং ভারতের বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী (Famous Indian Dancers)
📌 একনজরে সারসংক্ষেপ:

ভারতের বিখ্যাত ধ্রুপদী নৃত্য ও নৃত্যশিল্পীদের তালিকা সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- পণ্ডিত বিরজু মহারাজ 'কত্থক' নৃত্যের সঙ্গে, সংযুক্তা পাণিগ্রাহী 'ওডিসি', মৃণালিনী সারাভাই 'ভরতনাট্যম' এবং যামিনী কৃষ্ণমূর্তি 'কুচিপুড়ি' নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত। নিচে ভারতের বিখ্যাত নৃত্যশিল্পীদের নামের সম্পূর্ণ তালিকা PDF সহ দেওয়া হলো।

ভূমিকা

Hello Friends,

আজ আপনাদের জন্য 'কে কোন নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত' বা বিখ্যাত নৃত্যশিল্পীদের তালিকাটি প্রকাশ করলাম। এখানে ভারতের প্রচলিত কিছু ঐতিহ্যবাহী নৃত্য এবং সেই নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত প্রখ্যাত ব্যক্তিদের নামের একটি সাজানো তালিকা রয়েছে।

সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (যেমন- WBCS, SSC, WBP, Railway) স্ট্যাটিক জিকে (Static GK) থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে; যেমন- বিরজু মহারাজ কোন নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত? মৃণালিনী সারাভাই কোন নৃত্যের সাথে জড়িত? ইত্যাদি। তাই তালিকাটি যত্ন সহকারে পড়ে মনে রাখুন।

ভারতের ধ্রুপদী নৃত্য ও সংস্কৃতি

ভারতের নৃত্যকলাকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়: ধ্রুপদী নৃত্য (Classical Dance) এবং লোকনৃত্য (Folk Dance)

  • ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার্থে 'সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি' (Sangeet Natak Akademi) ভারতে মোট ৮টি নৃত্যকে ধ্রুপদী নৃত্যের স্বীকৃতি দিয়েছে।
  • এই ৮টি ধ্রুপদী নৃত্য হলো: ভরতনাট্যম, কত্থক, কথাকলি, কুচিপুড়ি, ওডিসি, সাত্রিয়া (Sattriya), মনিপুরি এবং মোহিনীঅট্টম।
  • এর বাইরে ছৌ, লাবনী, যক্ষগান, কালবেলিয়া ইত্যাদিকে লোকনৃত্য বা আধা-ধ্রুপদী নৃত্য হিসেবে ধরা হয়।

ভারতের বিখ্যাত নৃত্য ও নৃত্যশিল্পীদের তালিকা

নিচে ভারতের বিভিন্ন ধ্রুপদী ও লোকনৃত্যের নাম এবং সেই নৃত্যের সাথে যুক্ত ভারতের বিখ্যাত শিল্পীদের নাম দেওয়া হলো:

লাল রঙে হাইলাইট করা নামগুলো পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশিবার এসেছে
কে কোন নৃত্যের সাথে জড়িত তালিকা
নৃত্যের নাম নৃত্যশিল্পীদের নাম (Famous Dancers)
কত্থক (Kathak) পণ্ডিত বিরজু মহারাজ, লচ্ছু মহারাজ, গোপী কৃষ্ণন, শম্ভু মহারাজ, কুমুদিনী লাখিয়া, সিতারা দেবী, শোভনা নারায়ণ, রোশন কুমারী, ভারতী গুপ্ত, উমা শর্মা।
ভরতনাট্যম (Bharatanatyam) টি. বালাসরস্বতী, রুক্মিণী দেবী অরুণ্ডেল, মৃণালিনী সারাভাই, বৈজয়ন্তীমালা, যামিনী কৃষ্ণমূর্তি, সোনাল মানসিং, মল্লিকা সারাভাই, পদ্মা সুব্রহ্মণ্যম, অ্যালারমেল ভল্লী, সি.ভি. চন্দ্রশেখর।
মনিপুরি (Manipuri) গুরু বিপিন সিং, অমুবি সিং, বিনো দেবী, রীতা দেবী, চারু মাথুর, জাভেরি ভগিনী (দর্শনা, নয়না, সুবর্ণা, রঞ্জনা), রাজকুমার সিংঘজিৎ সিং, নির্মলা মেহেতা।
মোহিনীঅট্টম (Mohiniyattam) কলামান্দালাম কল্যাণীকুট্টি আম্মা, হেমা মালিনী, কনক রেলে, সুনন্দা নায়ার, গোপিকা বর্মা, ভারতী শিবাজী।
ওডিসি (Odissi) কেলুচরণ মহাপাত্র, সংযুক্তা পাণিগ্রাহী, গুরু পঙ্কজ চরণ দাস, সোনাল মানসিং, মিনতি মিশ্র, কুমকুম মোহান্তি, মাধবী মুদগাল, ইন্দ্রানী রহমান, সুজাতা মহাপাত্র।
কথাকলি (Kathakali) পি. কে. কুঞ্জু কুরূপ, গুরু গোপীনাথ, মৃণালিনী সারাভাই, রীতা গাঙ্গুলি, রামন কুট্টি নায়ার, কলামান্দালাম কৃষ্ণন নায়ার, সদানম কৃষ্ণন কুট্টি।
কুচিপুড়ি (Kuchipudi) ভেম্পতি চিন্না সত্যম, রাজা রেড্ডি ও রাধা রেড্ডি, যামিনী কৃষ্ণমূর্তি, স্বপ্না সুন্দরী, তীর্থ নারায়ণ, লক্ষ্মী নারায়ণ শাস্ত্রী, চিন্তা কৃষ্ণ মুরলি।
সাত্রিয়া (Sattriya) শ্রীমন্ত শংকরদেব (প্রতিষ্ঠাতা), গুরু যতীন গোস্বামী, গহন চন্দ্র গোস্বামী, মানিক বোরবায়ান, প্রমোদ বড়ুয়া।
পাণ্ডবানি (Pandavani) তীজন বাঈ (Teejan Bai), রিতু বর্মা, ঝাড়ুরাম দেবাঙ্গন।
যক্ষগান (Yakshagana) চিত্তানি রামচন্দ্র হেগড়ে, কেরেমান শিবরাম হেগড়ে।
লাবনী (Lavani) সুরেখা পুনেকর, বিঠাবাঈ ভাউ মাং নারায়ণগাঁওকর।
ছৌ নাচ (Chhau) চন্দ্রশেখর ভোঁজ, গোপাল প্রসাদ দুবে, মকর ধ্বজা দারোগা
কালবেলিয়া (Kalbelia) গুলাবো সাপেরা।
আধুনিক নৃত্য (Creative Dance) পণ্ডিত উদয় শংকর, অমলা শঙ্কর, মমতা শঙ্কর।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

বিরজু মহারাজ কোন নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত?
পণ্ডিত বিরজু মহারাজ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ধ্রুপদী নৃত্য কত্থক (Kathak)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মৃণালিনী সারাভাই কোন নৃত্যের সাথে জড়িত?
বিখ্যাত শিল্পী মৃণালিনী সারাভাই মূলত ভরতনাট্যম এবং কথাকলি নৃত্যের সাথে যুক্ত ছিলেন।
সংযুক্তা পাণিগ্রাহী কোন নৃত্যের সাথে যুক্ত?
সংযুক্তা পাণিগ্রাহী উড়িষ্যার বিখ্যাত ধ্রুপদী নৃত্য ওডিসি (Odissi)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পী ছিলেন।
সাত্রিয়া (Sattriya) নৃত্য কোন রাজ্যের এবং এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
সাত্রিয়া হলো ভারতের আসাম রাজ্যের একটি ধ্রুপদী নৃত্য। পঞ্চদশ শতাব্দীতে মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেব এই নৃত্যের প্রবর্তন করেন।