Breaking

Monday, September 7, 2026

Monday, September 07, 2026

পশ্চিমবঙ্গের উল্লেখযোগ্য পাহাড় তালিকা PDF | Hills of West Bengal

পশ্চিমবঙ্গের উল্লেখযোগ্য পাহাড় তালিকা PDF | Hills in West Bengal

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পাহাড় তালিকা PDF
পশ্চিমবঙ্গের উল্লেখযোগ্য পাহাড় ও তাদের অবস্থান (Hills in West Bengal)

ভূমিকা

Hello Friends,

আজ আপনাদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের উল্লেখযোগ্য পাহাড় তালিকা PDF শেয়ার করছি, যেটিতে পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় কোন পাহাড় অবস্থিত, এবং তাদের উচ্চতা কত, সেই সম্পূর্ণ লিস্ট সুন্দরভাবে দেওয়া হলো।

সরকারি চাকরির পরীক্ষা যেমন- WBCS, SSC, পিএসসি ক্লার্কশিপ (PSC Clerkship) এবং ডব্লিউবিপি (WBP) পরীক্ষাতে পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল বা জিকে (Geography GK) অংশ থেকে এই পাহাড়গুলো নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। যেমন:- অযোধ্যা পাহাড় কোন জেলায় অবস্থিত? শুশুনিয়া পাহাড় কোথায় অবস্থিত? ইত্যাদি। তাই তালিকাটি অবশ্যই সংগ্রহ করে রাখুন।

পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলের প্রধান ভাগ

পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। উত্তরে সুউচ্চ পর্বতমালা থেকে শুরু করে পশ্চিমে লাল মাটির মালভূমি— এই রাজ্যের পার্বত্য ও পাহাড়ি অঞ্চলকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

  • ১. উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল: দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। সিঙ্গালীলা (Singalila) এবং দার্জিলিং— এই দুটি প্রধান শৈলশিরা এখানে অবস্থিত। সান্দাকফু, ফালুট, সবরগ্রাম, টাইগার হিলের মতো সুউচ্চ শৃঙ্গগুলি এই অঞ্চলেরই অন্তর্গত।
  • ২. পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বীরভূম জেলার পশ্চিমাংশ নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এটি মূলত প্রাচীন ছোটনাগপুর মালভূমির (Chota Nagpur Plateau) অংশ। অযোধ্যা, শুশুনিয়া, বিহারীনাথ হলো এই অঞ্চলের প্রধান পাহাড়।

পশ্চিমবঙ্গের পাহাড় ও শৃঙ্গের সম্পূর্ণ তালিকা

নিচে পশ্চিমবঙ্গের উল্লেখযোগ্য পাহাড় এবং শৃঙ্গের নাম, তাদের আনুমানিক উচ্চতা (মিটারে) এবং বর্তমান অবস্থানের একটি নির্ভুল তালিকা দেওয়া হলো:

পশ্চিমবঙ্গের উল্লেখযোগ্য পাহাড় ও অবস্থানের তালিকা
পাহাড় / শৃঙ্গের নাম উচ্চতা (মিটার) অবস্থিত জেলা
সান্দাকফু (Sandakphu)৩৬৩৬ মি.দার্জিলিং (রাজ্যের সর্বোচ্চ)
ফালুট (Phalut)৩৫৯৫ মি.দার্জিলিং
সবরগ্রাম (Sabargram)৩৫৪৩ মি.দার্জিলিং
টংলু (Tonglu)৩০৩৬ মি.দার্জিলিং
টাইগার হিল (Tiger Hill)২৫৯০ মি.দার্জিলিং
সিঞ্চল (Sinchal)২৬১৫ মি.দার্জিলিং
ঘুম হিল (Ghum Hill)২৪০০ মি.দার্জিলিং
ডেলো হিল (Deolo Hill)১৭০৪ মি.কালিম্পং
দুরপিন হিল (Durpin Hill)১৩৭২ মি.কালিম্পং
সিঞ্চুলা পাহাড় (Sinchula)১৭৩৩ মি. (বক্সা রেঞ্জ)আলিপুরদুয়ার
বক্সা পাহাড় (Buxa Hill)১৪০০ মি.আলিপুরদুয়ার
অযোধ্যা পাহাড় (Ayodhya Hills)৬৭৭ মি. (গোর্গাবুরু) / ৭১২ মি. (চেমতাবুরু)পুরুলিয়া
পাঞ্চেত পাহাড় (Panchet Hill)৪৯০ মি.পুরুলিয়া
বিহারীনাথ পাহাড় (Biharinath)৪৫১ মি.বাঁকুড়া
শুশুনিয়া পাহাড় (Susunia)৪৪৮ মি.বাঁকুড়া
জয়চণ্ডী পাহাড় (Joychandi)১৫৫ মি.পুরুলিয়া
মামা ভাগ্নে পাহাড় (Mama Bhagne)১০৫ মি.বীরভূম
বাঘমুণ্ডি পাহাড়~ ৪০০ মি.পুরুলিয়া
মথুরাখালি পাহাড়---বীরভূম
কোরো / তপোবন পাহাড়~ ৪০০ মি.বাঁকুড়া
গুরুমা পাহাড়---পুরুলিয়া
পরশ পাহাড়---পুরুলিয়া
ভাণ্ডারী পাহাড়---পুরুলিয়া
মশক পাহাড়---বাঁকুড়া

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো সান্দাকফু (Sandakphu), যার উচ্চতা ৩৬৩৬ মিটার। এটি দার্জিলিং জেলার সিঙ্গালীলা পর্বতমালার অন্তর্গত।
দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
পুরুলিয়া জেলার অযোধ্যা পাহাড়ের 'গোর্গাবুরু' (৬৭৭ মিটার) হলো দক্ষিণবঙ্গের বিখ্যাত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। তবে আধুনিক তথ্য অনুযায়ী 'চেমতাবুরু' (৭১২ মিটার) হলো প্রকৃত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
মামা ভাগ্নে পাহাড় কোথায় অবস্থিত?
মামা ভাগ্নে পাহাড় বীরভূম জেলার দুবরাজপুরে অবস্থিত।
শুশুনিয়া ও বিহারীনাথ পাহাড় কোন জেলায় অবস্থিত?
শুশুনিয়া এবং বিহারীনাথ— এই দুটি পাহাড়ই বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত।
Monday, September 07, 2026

WBPSC Miscellaneous Exam GK Mock Test in Bengali Part 394

WBPSC Miscellaneous Exam GK Mock Test in Bengali - Part 394

WBPSC Miscellaneous Exam GK Mock Test in Bengali Part 394 Online
WBPSC Miscellaneous GK Question Answer in Bengali
নমস্কার পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, আপনারা যারা আসন্ন WBPSC Miscellaneous বা পিএসসি মিসলেনিয়াস পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আজ আমরা নিয়ে এসেছি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ WBPSC Miscellaneous Exam GK Mock Test in Bengali Part 394। পশ্চিমবঙ্গ সরকারি চাকরির (West Bengal Govt Jobs) প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিয়মিত মক টেস্ট চর্চা করা অপরিহার্য।

পিএসসি মিসলেনিয়াস পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের (GK) গুরুত্ব

পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (WBPSC) যেকোনো পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান একটি স্কোরিং বিষয়। প্রিলিমিনারি ও মেইন উভয় পরীক্ষাতেই স্ট্যাটিক জিকে (Static GK) এবং কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স (Current Affairs) থেকে প্রচুর প্রশ্ন আসে। সঠিক গাইডেন্স এবং সিলেবাস অনুযায়ী বিগত বছরের প্রশ্নপত্র (PYQ) অ্যানালাইসিস করে আমরা এই পর্বটি সাজিয়েছি। (অফিসিয়াল সিলেবাস ও পরীক্ষার তারিখ জানতে WBPSC Official Website নজর রাখুন।)

এই মক টেস্টে কোন কোন বিষয়ের প্রশ্ন থাকছে?

আপনাদের প্রস্তুতিকে সার্বিক রূপ দিতে আমাদের এই মকটেস্ট সিরিজে বিভিন্ন বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে:
  • ভারতের ইতিহাস ও জাতীয় আন্দোলন (Indian History)
  • ভারতের ভূগোল এবং পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল (Geography of WB & India)
  • ভারতীয় সংবিধান ও অর্থনীতি (Indian Polity & Economy)
  • সাধারণ বিজ্ঞান (General Science - Physics, Chemistry, Biology)
  • সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (Latest Current Affairs)

নিয়মিত অনলাইন মক টেস্ট দেওয়ার সুবিধা

পরীক্ষার হলে টাইম ম্যানেজমেন্ট একটি বড় ফ্যাক্টর। নিয়মিত এই মকটেস্টগুলিতে অংশগ্রহণ করলে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক উত্তর নির্বাচনের দক্ষতা অর্জন করবেন এবং নেগেটিভ মার্কিং এড়িয়ে নিজের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারবেন।

মকটেস্টের নিয়মাবলী:

  • প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য নির্দিষ্ট নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।
  • সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্পন্ন হলে নিচে থাকা 'Submit' বাটনে ক্লিক করুন।
  • সাবমিট করার সাথে সাথেই আপনি আপনার প্রাপ্ত নম্বর (Score) এবং প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরগুলি (Correct Answers) দেখতে পাবেন।
পরীক্ষার্থীদের সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. WBPSC Miscellaneous পরীক্ষার জন্য এই জিকে মকটেস্ট কতটা কার্যকরী?

এই মকটেস্টগুলি WBPSC এর সর্বশেষ সিলেবাস এবং বিগত বছরের প্রশ্নপত্রের প্যাটার্ন অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে, যা আপনার প্রস্তুতিকে মজবুত করতে অত্যন্ত সাহায্য করবে।

২. মকটেস্টের ফলাফল এবং সঠিক উত্তর কীভাবে জানতে পারব?

মকটেস্ট সম্পূর্ণ করে 'Submit' বাটনে ক্লিক করলেই আপনি আপনার মোট স্কোর এবং প্রতিটি জিকে প্রশ্নের সঠিক উত্তরগুলি সরাসরি স্ক্রিনে দেখতে পাবেন।

৩. এই মক টেস্ট কি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া যাবে?

হ্যাঁ, swapno.in ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সমস্ত অনলাইন মকটেস্ট পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

আজকের মকটেস্টে আপনার স্কোর কত হলো, তা নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাদের জানান! বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তাদেরও প্রস্তুতির সুযোগ করে দিন।

Monday, September 07, 2026

১০ জন শিখ গুরু তালিকা PDF | Ten Sikh Gurus

১০ জন শিখ গুরুর পরিচয় ও অবদান PDF | 10 Sikh Gurus in Bengali

১০ জন শিখ গুরু তালিকা PDF
১০ জন শিখ গুরুর নাম ও ইতিহাস (Ten Sikh Gurus)

ভূমিকা

Hello Friends,

শিখধর্মে গুরুকেই সমস্ত জ্ঞানের আধার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ভারতে শিখ ধর্মের প্রবর্তক হলেন গুরু নানক। অর্থাৎ তিনিই হলেন এই ধর্মের প্রথম গুরু এবং এনার পরবর্তী সময়ে আরো নয় জন শিখ গুরুর আবির্ভাব ঘটেছিল। সবমিলিয়ে মোট ১০ জন শিখ গুরু ছিলেন, যাদের কাছে এই ধর্মাবলম্বীরা শিক্ষা গ্রহণ করত এবং তাঁদের দেখানো পথকে অনুসরণ করেই জীবনে মোক্ষ লাভ সম্ভব বলে তারা মনে করত।

সরকারি চাকরির পরীক্ষা যেমন- WBCS, SSC, ডব্লিউবিপি (WBP) বা অন্যান্য পরীক্ষাতে শিখ গুরুদের অবদান এবং ইতিহাস থেকে প্রচুর প্রশ্ন আসে। শিখ ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ হলো 'গুরু গ্রন্থ সাহিব', যেটিকেই একাদশ এবং চিরস্থায়ী গুরু হিসাবে মানা হয়।

১০ জন শিখ গুরুর পরিচয় ও অবদান

১. প্রথম শিখগুরু: গুরু নানক (Guru Nanak)

✪ জীবনকাল: ১৫ এপ্রিল ১৪৬৯ – ২২ সেপ্টেম্বর ১৫৩৯ ✪ গুরুপদ অর্জন: ২০ আগস্ট ১৫০৭
  • পিতা: মেহেতা কালু এবং মাতা: তৃপ্তা।
  • তিনিই হলেন শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা।
  • তিনি পাঞ্জাবের তালওয়ান্দি (বর্তমান নানকানা সাহিব, পাকিস্তান) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর রচিত ঠিক ৯৭৪টি পবিত্র স্তোত্র বা শ্লোক শিখদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ "গুরু গ্রন্থ সাহিব"-এ সংরক্ষিত রয়েছে।

২. দ্বিতীয় শিখগুরু: অঙ্গদ দেব (Guru Angad Dev)

✪ জীবনকাল: ৩১ মার্চ ১৫০৪ – ২৯ মার্চ ১৫৫২ ✪ গুরুপদ অর্জন: ৭ সেপ্টেম্বর ১৫৩৯
  • তিনি পাঞ্জাবি ভাষার 'গুরুমুখী লিপি' (Gurmukhi Script) আবিষ্কার করেন।
  • তিনি নানকের বাণী ও উপদেশসমূহ লিপিবদ্ধ করেন এবং 'লঙ্গর' প্রথাকে আরও প্রসারিত করেন।

৩. তৃতীয় শিখগুরু: অমর দাস (Guru Amar Das)

✪ জীবনকাল: ৫ মে ১৪৭৯ – ১ সেপ্টেম্বর ১৫৭৪ ✪ গুরুপদ অর্জন: ২৬ মার্চ ১৫৫২
  • তিনি শিখ ধর্মকে ২২টি প্রশাসনিক ভাগে ভাগ করেন, এই ভাগগুলোকে "মঞ্জি" (Manji) বলা হতো।
  • তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লঙ্গর ব্যবস্থা চালু করেন।
  • সতীদাহ প্রথা ও পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে তিনি কঠোর আন্দোলন শুরু করেছিলেন।

৪. চতুর্থ শিখগুরু: রামদাস (Guru Ram Das)

✪ জীবনকাল: ২৪ সেপ্টেম্বর ১৫৩৪ – ১ সেপ্টেম্বর ১৫৮১ ✪ গুরুপদ অর্জন: ১ সেপ্টেম্বর ১৫৭৪
  • তাঁর বাবা ছিলেন হরি দাস এবং মা অনুপ দেবী (দয়া কৌর)। তিনি লাহোরের চুনা মান্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি ছিলেন গুরু অমর দাসের জামাতা।
  • ১৫৭৭ সালে তিনি পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে পবিত্র 'অমৃত সরোবর' খনন করেন (আকবর তাঁকে এই জমি দান করেছিলেন)।

৫. পঞ্চম শিখগুরু: অর্জন দেব (Guru Arjan Dev)

✪ জীবনকাল: ১৫ এপ্রিল ১৫৬৩ – ৩০ মে ১৬০৬ ✪ গুরুপদ অর্জন: ১ সেপ্টেম্বর ১৫৮১
  • পিতা: গুরু রামদাস এবং মাতা: ভানি। এই সময় থেকে গুরুপদ বংশানুক্রমিক হয়।
  • তিনি ১৬০৪ সালে শিখদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ 'আদি গ্রন্থ' (আদি গুরু গ্রন্থ সাহিব) রচনা ও সংকলন করেছিলেন।
  • তিনি অমৃতসরের পবিত্র সরোবরের মাঝখানে 'দরবার সাহিব' বা 'হরিমন্দির সাহিব' (স্বর্ণমন্দির) নির্মাণ করেন। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন মুসলিম সুফি সন্ত মিয়া মীর।
  • তিনি 'দসভন্দ' (আয়ের এক-দশমাংশ দান) প্রথা চালু করেন এবং 'মসন্দ' নামে একটি প্রতিনিধি দল গঠন করেন।
  • বিদ্রোহী রাজপুত্র খসরুকে সাহায্যের অভিযোগে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রাণদণ্ড দেন (প্রথম শিখ শহীদ)।

৬. ষষ্ঠ শিখগুরু: হরগোবিন্দ (Guru Hargobind)

✪ জীবনকাল: ১৯ জুন ১৫৯৫ – ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৬৪৪ ✪ গুরুপদ অর্জন: ২৫ মে ১৬০৬
  • পিতা: গুরু অর্জন দেব এবং মাতা: গঙ্গা। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর দ্বারা পিতার মৃত্যুদণ্ড হবার পর মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি গুরুপদ লাভ করেন।
  • তিনি শিখদের সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী করেন এবং আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে 'মীরি' (Miri) ও 'পীরি' (Piri) নামক দুটি তলোয়ার ধারণ প্রথা চালু করেন।
  • তিনি "সাচ্চা বাদশাহ" উপাধি গ্রহণ করেন এবং অমৃতসরে "অকাল তখত" (Akal Takht - ঈশ্বরের সিংহাসন) নির্মাণ করেন।

৭. সপ্তম শিখগুরু: হর রায় (Guru Har Rai)

✪ জীবনকাল: ১৬ জানুয়ারি ১৬৩০ – ৬ অক্টোবর ১৬৬১ ✪ গুরুপদ অর্জন: ৩ মার্চ ১৬৪৪
  • তিনি একজন শান্তিকামী গুরু ছিলেন, তবে তাঁর একটি বিশাল সামরিক বাহিনী ছিল।
  • শাহজাহানের পুত্র দারা শিকোহ-কে চিকিৎসার কাজে সাহায্য করার কারণে আওরঙ্গজেবের সাথে তাঁর সংঘাত শুরু হয়।

৮. অষ্টম শিখগুরু: হরকিষন (Guru Har Krishan)

✪ জীবনকাল: ৭ জুলাই ১৬৫৬ – ৩০ মার্চ ১৬৬৪ ✪ গুরুপদ অর্জন: ৬ অক্টোবর ১৬৬১
  • তিনি মাত্র ৫ বছর বয়সে গুরুপদ লাভ করেন, তাই তাঁকে "বাল গুরু" বলা হয়।
  • দিল্লিতে মহামারী চলাকালীন মানুষের সেবা করতে গিয়ে তিনি বসন্ত রোগে (Smallpox) আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৮ বছর বয়সে মারা যান।

৯. নবম শিখগুরু: তেগবাহাদুর (Guru Tegh Bahadur)

✪ জীবনকাল: ১ এপ্রিল ১৬২১ – ১১ নভেম্বর ১৬৭৫ ✪ গুরুপদ অর্জন: ২০ মার্চ ১৬৬৫
  • তিনি 'আনন্দপুর সাহিব' শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
  • কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন।
  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করায় মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে দিল্লির চাঁদনি চকে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ করে হত্যার আদেশ দেন (১৬৭৫)।

১০. দশম শিখগুরু: গোবিন্দ সিং (Guru Gobind Singh)

✪ জীবনকাল: ২২ ডিসেম্বর ১৬৬৬ – ৭ অক্টোবর ১৭০৮ ✪ গুরুপদ অর্জন: ১১ নভেম্বর ১৬৭৫
  • তিনি বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন শিখ জাতির শ্রেষ্ঠ নেতা, যোদ্ধা, কবি ও দার্শনিক।
  • ১৬৯৯ সালে তিনি "খালসা" (Khalsa) বাহিনী গঠন করে শিখদের একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক জাতিতে পরিণত করেন।
  • তিনি শিখদের জন্য পাঁচটি 'ক' (5 Ks) ধারণ করা বাধ্যতামূলক করেন— কেশ (চুল), কঙ্ঘা (চিরুনি), কড়া (লোহার চুড়ি), কচ্ছেরা (অন্তর্বাস), এবং কৃপাণ (তলোয়ার)।
  • "অমৃত পহুল" বা বাপ্তিস্ম পদ্ধতির প্রচলন করেন। পুরুষদের নামের শেষে 'সিং' (সিংহ) এবং মহিলাদের নামের শেষে 'কৌর' (রাজকুমারী) যুক্ত করার নির্দেশ দেন।
  • ১৭০৮ সালের ৭ অক্টোবর তিনি মারা যাওয়ার আগে শিখধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ 'গুরু গ্রন্থ সাহিব'-কে শিখদের পরবর্তী এবং চিরস্থায়ী গুরু হিসেবে ঘোষণা করেন, যার ফলে মানব গুরু প্রথার অবসান ঘটে।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

শিখ ধর্মে মোট কতজন শিখ গুরু ছিলেন?
শিখ ধর্মে মোট ১০ জন শিখ গুরু ছিলেন। প্রথম গুরু ছিলেন গুরু নানক এবং দশম গুরু ছিলেন গুরু গোবিন্দ সিং।
খালসা প্রথা কে প্রবর্তন করেন?
১৬৯৯ সালে দশম শিখগুরু গুরু গোবিন্দ সিং খালসা (Khalsa) প্রথা প্রবর্তন করেন এবং শিখদের একটি সামরিক জাতিতে পরিণত করেন।
দশজন শিখ গুরুর নাম কী কী?
গুরু নানক, গুরু অঙ্গদ দেব, গুরু অমর দাস, গুরু রামদাস, গুরু অর্জন দেব, গুরু হরগোবিন্দ, গুরু হর রায়, গুরু হরকিষন, গুরু তেগবাহাদুর এবং গুরু গোবিন্দ সিং।
তেগবাহাদুর কততম শিখগুরু ছিলেন?
গুরু তেগবাহাদুর ছিলেন নবম (৯ম) শিখগুরু, যাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করার কারণে আওরঙ্গজেবের নির্দেশে হত্যা করা হয়েছিল।